ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:২৩ পিএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:৩৯ পিএম
র্যাব সদস্য। সংগৃহীত ফটো
তিন লাখ টাকার বিনিময়ে এক নারীকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে নির্যাতন ও পরে দেশে ফেরাতে দ্বিতীয় দফায় আরও তিন লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হ্যাপি ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজধানী থেকে এজেন্সির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন- নজরুল ইসলাম মিলন, বাদল আকন, হেলাল উদ্দিন, আব্দুর রহমান রিপন ও মাসুদ আলম। তাদের কাছ থেকে দশটি মোবাইল ফোন, আটটি এটিএম কার্ড, তিনটি স্ট্যাম্প ও নগদ ২৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, চক্রটি বিদেশে পাঠানোর জন্য বেকার নারীদের টার্গেট করত। তাদের সৌদি আরবে ভালো বেতন ও চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করে। কেউ ফাঁদে পড়লে মেডিকেল টেস্ট, ভিসা ও বিমানের টিকিটের খরচ বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন লাখ করে টাকা নেয়। সৌদি পাঠানোর পর তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর তারা যখন দেশে ফিরতে চায়, ওই এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে ফেরত খরচ বাবাদ ফের ভুক্তভুগীর পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ করে টাকা নেয়। এ ঘটনায় এক ভুক্তভোগী পরিবার গত সোমবার পল্টন থানায় একটি মামলা করে। ওই রাতেই চক্রের পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, এই এজেন্সিকে নারী পাচারকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শনাক্ত করেছে র্যাব। তাদের কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই, কিন্তু বিদেশে লোক পাঠাতো। তাদের মূল উদ্দেশ্য টাকা আত্মসাৎ করা।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান রিপন প্রতিবেশী এক তরুণীকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন, থাকা-খাওয়ার ভাতা ও দুটি উৎসবভাতাসহ চাকরি দিয়ে সৌদি পাঠানোর প্রলোভন দেখান। গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পল্টনে ওই রিক্রুটিং এজেন্সিতে যান তরুণী। ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে গৃহকর্মীর ভিসা দেওয়ার কথা বলা হয়। গত বছরের ৪ অক্টোবর ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় তারা। তাতে লেখা হয়, তরুণী দুই বছরের মধ্যে দেশে ফিরবে না। তাকে পাঠাতে খরচ হবে তিন লাখ টাকা। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর বিকালে তাকে সৌদি আরব পাঠানো হয়। কিন্তু পনের দিনের মধ্যে ওই তরুণী তার পরিবারকে ফোন করে জানান তিনি প্রতিশ্রুত চাকরি পায়নি। নিয়োগকর্তা তাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করছে। যদি বাড়ি ফিরতে না পারেন তাহলে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে ফিরিয়ে আনার জন্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু এজেন্সি তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিন লাখ টাকা চায়। ভুক্তোভোগী তরুণীর ভাই বলেন, ‘আমি তাদের অনুরোধ করে বলেছিলাম, আমি একজন দরিদ্র মানুষ এবং এক লাখ টাকা দেওয়াই আমার পক্ষে কঠিন। এরপর এজেন্সি এক লাখ টাকা নেয় এবং চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি তার বোনের ফিরে আসার কথা। কিন্তু এরপর এজেন্সি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করেন ভাই। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিন পার করছি এবং কীভাবে বোনকে ফিরিয়ে আনব তা জানি না।’
র্যাব জানায়, ২০১৮ সাল থেকে চক্রটি নারী পাচার করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করছে তারা। এ ছাড়া ভুক্তোভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতেও কাজ করছে।