প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:২১ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৫০ পিএম
ফাইল ফটো
চলতি মাসের বেশ কিছুদিনই রাজধানী ঢাকা দূষিত বায়ুর শীর্ষে অবস্থান করেছে। গত এক সপ্তাহের প্রায় ছয় দিনই ছিল এমন অবস্থা। ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভারে প্রচুর কলকারখানা থাকায় বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ‘রাজধানীর বিপর্যস্ত বায়ু : নগরায়ণের বিদ্যমান প্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক অনলাইন এক আলোচনায় বক্তারা দাবি করেন, এ বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ নগরায়ণের সঠিক রোডম্যাপ না থাকা।
শনিবার (২৮ জানুয়ারি) ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) ওই আলোচনার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, বক্তব্য দেন আইপিডির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আক্তার মাহমুদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামালউদ্দিন, কানাডার সেন্ট মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিষয়ক গবেষক মো. মনিরুজ্জামান, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. রেদওয়ানুর রহমান, আইপিডির পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. ফরহাদুর রেজা প্রমুখ।
আরিফুল ইসলাম বলেন, ’বায়ুদূষণে শুধু স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। জিডিপি কমে যায়। বায়ুদূষণ কমাতে নগর এলাকায় অনাচ্ছাদিত এলাকায় ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক বায়ুর মান নিয়মিত তদারকি করতে হবে ‘
অধ্যাপক আক্তার মাহমুদ বলেন, ‘রাজধানীতে নতুন করে কোনো সবুজ প্রকল্প দেখা যাচ্ছে না। ঘাস না থাকার কারণে বায়ুদূষণ বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের এক থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে মাত্র ৪ দিন বায়ুমান তিনশর নিচে ছিল। এই বায়ুদূষণ যে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও অন্যান্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অনেক বড় বিষয়, এ সম্পর্কে সচেতনতা নেই।’
তিনি বলেন, ’উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলাকালে সরকারকেই একটি মানদণ্ড দাঁড় করিয়ে দেখাতে হবে কীভাবে কাজ করতে হবে। নিজ ইচ্ছামাফিক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণহীন ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির অবাধ চলাচল, মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যার মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি ও ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে বায়ুদূষণ ঘটছে। বায়ুদূষণ কমানোর জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে।’
আলোচনায় জামালউদ্দিন বলেন, ‘বায়ুদূষণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ থেকে ১০ বছর গড় আয়ু কমছে। বাংলাদেশেও ৭ থেকে ৮ বছর কমছে। এইডসের চেয়েও ভয়ংকর বায়ুদূষণ। সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে এটি কমানো যাবে না।’
মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে মাত্র ১১টি পয়েন্টে রাষ্ট্রীয়ভাবে বায়ুমান পরিমাপ করা হচ্ছে, যা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে অপ্রতুল। ঢাকায় তিনটি বায়ুমান নির্ণয়কেন্দ্র আছে, তা বাড়াতে হবে।’
ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, ‘বায়ুদূষণের কারণে আমাদের আকাশের উপরিভাগে ‘ডাস্ট ডোম লেয়ার’ তৈরি হচ্ছে, যা আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। জাপান তাদের নির্মাণ ব্যবস্থার ধুলাবালি বাইরে যেতে দেয় না। আমাদের সেদিকে চেষ্টা করতে হবে। তা ছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করা হলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে।’
রেদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘বায়ুদূষণ রোধে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক শহরে ৩০ ভাগ বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ঢাকা ও আশেপাশে এমন সবুজায়ন ও বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’ এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, শুধু রাস্তায় পানি দিয়ে বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব হবে না। বরং গাছেও পানি দিতে হবে। কেননা, গাছের পাতায় ধুলাবালির স্তর পড়ে যায়। তাতে অক্সিজেন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।