উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০৪টি জীবিত ও মৃত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বন অধিদপ্তর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ জুলাই রূপনগর থানার ট-ব্লকের সেকশন-৬ এলাকার একটি বহুতল ভবনে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি বাসা থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে খাঁচা ও ল্যাবরেটরিতে রাখা বিভিন্ন বিদেশি সরীসৃপ, উভচর প্রাণী এবং বিপুলসংখ্যক কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পরিবেশবাদী সংগঠন বাওয়া-এর স্বত্বাধিকারী আদনান আজাদ সহযোগিতা করেন।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে দুটি কর্ন স্নেক, একটি মেক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, একটি গোল্ডেন চাকুনি ট্যারেনটোলা, একটি ব্লাড লেগ ট্যারেনটোলা, একটি ডাম্পি ফ্রগ, একটি লেপার্ড গেকো ও একটি রাউন্ড টেইল লেপার্ড গেকো। এছাড়া ৮৪৬টি রেড-ইয়ার স্লাইডার, ১৩৮টি রিভস টারটেল, ৫৬টি কমন স্ন্যাপিং টারটেল, ৩৮টি ইয়েলো-ইয়ার স্লাইডার এবং ১৮টি পিঙ্ক বেলি সাইড-নেক কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২১টি কচ্ছপ মৃত ছিল।
অভিযানকালে কাজী শাজীদ উল্লাহ দস্তগীর (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে রূপনগর থানায় মামলা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
বন অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের সঙ্গে দেশ-বিদেশের আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে বন অধিদপ্তর। সফল এ অভিযানে সহযোগিতার জন্য রূপনগর থানা পুলিশ ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-কে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।