× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বদলে যাওয়া নগরজীবনের গল্প

রাহাত হুসাইন

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬ ১৬:৪১ পিএম

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬ ১৬:৫৩ পিএম

তখনকার মিরপুরে আজকের মতো বহুতল ভবনের সারি, মানুষের অবিরাম ব্যস্ততা বা যানজট এসব কল্পনাতীত ছিল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

তখনকার মিরপুরে আজকের মতো বহুতল ভবনের সারি, মানুষের অবিরাম ব্যস্ততা বা যানজট এসব কল্পনাতীত ছিল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নব্বইয়ের দশকে সন্ধ্যা নামলেই নিঝুম হয়ে যেত রাজধানীর মিরপুর। চারপাশ থেকে ভেসে আসত ব্যাঙের ডাক। অধিকাংশ সড়কই ছিল মাটির, কোথাও কোথাও বড়জোর আধাপাকা। হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ি নিয়ে গড়ে ওঠা সেই জনপদজুড়ে ছিল ডোবা, খালি জায়গা আর জলাশয়। খাবার পানির জন্য বাড়িগুলোতে থাকত কুয়া ও চৌবাচ্চা। তখনকার মিরপুরে আজকের মতো বহুতল ভবনের সারি, মানুষের অবিরাম ব্যস্ততা বা যানজট- এসব কল্পনাতীত ছিল।

সেই দিনগুলোর স্মৃতি ভাগ করে নিলেন মিরপুরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা সুলতানা বেগম। পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করেই ১৯৯১ সালে জামালপুরের পিয়ারপুর গ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। এসে ওঠেন মিরপুর ৭ নম্বরে বড় বোনের টিনশেড ভাড়া বাসায়। নতুন শহরে টিকে থাকার সংগ্রাম শুরু হয় পোশাক কারখানায় চাকরির মধ্য দিয়ে। এরপর এই মিরপুরেই কেটে গেছে তার জীবনের দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়। বিশাল নগর রূপান্তরের তিনি এক জীবন্ত সাক্ষী।

সুলতানা বেগম বলেন, “তখন এত ঘনবসতি ছিল না, চারপাশটা খোলামেলা ছিল। অনেকেই মাটির চুলায় রান্না করত। আশপাশের খালি জায়গা থেকে দেশি শাক তুলে এনে রান্না করে খেয়েছি। এখন চারদিকে বহুতল সব ভবন লোকারণ্য”।

সুলতানা বেগমের এই অভিজ্ঞতা আসলে কোনো একক মানুষের গল্প নয়, এটি বৃহত্তর মিরপুরের রূপান্তরেরই প্রতিচ্ছবি। একসময় যা ছিল রাজধানীর প্রান্তিক, অবহেলিত ও নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকা, সময়ের ব্যবধানে সেই মিরপুরই এখন ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও গতিশীল নগর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

বৃহত্তর মিরপুর এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন বিশাল এক এলাকা। মিরপুরকে ঘিরে রয়েছে ঢাকা-১৪, ১৫ ও ১৬ এই তিনটি সংসদীয় আসন। পুরো এলাকাটি মিরপুর মডেল, পল্লবী, শাহ আলী, দারুস সালাম, কাফরুল, রূপনগর ও ভাসানটেক থানায় বিভক্ত। বিপুল জনসংখ্যা ও বিস্তৃত আবাসিক এলাকার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমও এখানে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

গত তিন দশকে মিরপুরের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আবাসন ও অবকাঠামোতে। সড়ক সম্প্রসারণ, নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ, ফুটপাত সংস্কার, ড্রেনেজ উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণের ফলে এলাকার নগর কাঠামো বদলে গেছে অনেকটাই। সরকারি ও বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলো মিরপুরের এই নগরায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তুলেছে অসংখ্য আবাসিক ভবন। পুরনো একতলা ও দোতলা বাড়ির জায়গায় আকাশ ফুঁড়ে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। ফলে

জনসংখ্যার ঘনত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে নাগরিক সুবিধার চাহিদাও। অবহেলিত প্রান্তর থেকে আধুনিকতার এই যাত্রায় মিরপুর একটি স্বনির্ভর উপশহরে পরিণত হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর বাসযোগ্যতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বদলে যাওয়া এই মিরপুর নিয়ে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই মিরপুর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। আগে তুলনামূলক কম জমিমূল্য ও বাড়িভাড়ার কারণে মানুষ এখানে বসতি গড়ে তুলেছিল। সব মিলিয়ে মিরপুর এখন একটি গতিশীল নগর অঞ্চলে পরিণত হলেও এখানে পরিকল্পিত নগরায়ণের ঘাটতি প্রকট”।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “একটি আদর্শ শহরে ২৫ শতাংশ সবুজ এলাকা এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জলাশয় থাকার কথা। কিন্তু অপরিকল্পিত ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে মিরপুরে তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এতে এলাকার ওপর পরিবেশগত চাপ ক্রমেই বাড়ছে”।

অবহেলার অতীত পেরিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মিরপুর এখন নগরজীবনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি। তবে শুধু ইট-পাথরের উন্নয়ন নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও পরিকল্পিত মিরপুর নিশ্চিত করাই এখন এখানকার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা