প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ১৮:৩৫ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৬ ১৮:৩৬ পিএম
ডিএসসিসির নগর ভবনে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কোরবানির পশুর হাটের বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এসব কথা বলেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
তিনি দাবি করেছেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ১৪৪ টন বেশি বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে ডিএসসিসি। তবে এ কার্যক্রমে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রশাসক জানান, এ বছর তিন দিনে কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩ হাজার ৯৪২ টন। ঈদের দিন থেকে ৩০ মে রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ১৪৪ টন বেশি বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিনে ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিনে ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়, সেখানে কোরবানির সময় প্রায় একই জনবল ও সম্পদ ব্যবহার করে দৈনিক পাঁচ গুণেরও বেশি বর্জ্য অপসারণ করতে হয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও কিছু ত্রুটি থেকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিগত তিন দিনে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপিসহ (পিসিএসপি) প্রায় ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ছিলেন। এ কাজে ৩৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে হাটের ইজারাদাররা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ করেননি। ফলে জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশনকেই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাটের সমস্ত বর্জ্য অপসারণ করতে হয়েছে। এতে সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে এবং পুরো কার্যক্রম আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জামানতের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ইজারাদার এর তোয়াক্কা করেন না। তাই আগামী বছর থেকে জামানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে সে যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সহযোগিতার জন্য নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, অনেক সচেতন নাগরিক নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করেছেন এবং বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহযোগিতা করেছেন। ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টেলিভিশনে সচেতনতামূলক প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট এবং ওয়ার্ডভিত্তিক মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়।
তিনি জানান, নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ৫টি ওয়ার্ডে করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত ৩৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম এখনও চলমান উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ডিএসসিসির কোথাও বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে নাগরিকরা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাময়িক ভোগান্তি ও ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, গত তিন দিন ধরে টানা কোরবানি, যত্রতত্র বর্জ্য ও চামড়া ফেলে রাখা, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজট এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত বর্জ্য অপসারণের কারণে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে। এ জন্য তিনি নগরবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন বদ্ধপরিকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ যেকোনো নাগরিক সেবায় গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গণমাধ্যম ও নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, নাগরিকরা সচেতন হলে যেকোনো সমস্যার অর্ধেক সমাধান এমনিতেই হয়ে যায়, বাকি অর্ধেক সমাধান নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।।