প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৩:৫০ পিএম
ঢাকার শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবার সকালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফরিদা খানম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টাকার অভাবে সাত মাস বয়সের শিশু তাজিমের আইসিইউ চিকিৎসা থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে ঢাকার জেলা প্রশাসক ডিসি ফরিদা খানমের। এরপর তিনি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।
ঢাকার শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবার সকালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে শিশুটির চিকিৎসার পুরো ব্যয় বহনের দায়িত্বও গ্রহণ করা হয়।
একই সময়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আরেক শিশু তামজিদের দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোগী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি শিশুই আমাদের সন্তান।
একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমি জেলা প্রশাসক; আমি তো মা-ও, বলেন তিনি।
হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, শয্যা পরিস্থিতি ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুদের সময়মতো এমআর/হাম টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালের রোগীর চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবার যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে অসহায় রোগীদের সহায়তা দিয়ে আসছে।
পরিদর্শনের সময় তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আসলামের সন্তানের চিকিৎসার বিষয়টি জানতে পারেন। অর্থাভাবে আইসিইউ খরচ চালাতে না পারার কথা জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়। একইভাবে নরসিংদী থেকে আসা শিশু তামজিদের চিকিৎসার জন্যও সহায়তা প্রদান করা হয়।
এদিকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে শিশু তাজিমের পরিবার।
শিশুটির বাবা আসলাম বলেন, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান তিনি। দৈনন্দিন আয় দিয়ে সংসারই ঠিকমতো চলে না, সেখানে সন্তানের আইসিইউ খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, এমন সময় জেলা প্রশাসক আমার সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।
শিশু তামজিদের মা শাহিনুর বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা চালাতে না পেরে তারা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় সন্তানের নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।