প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ ২১:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৯ মে ২০২৬ ২২:১৬ পিএম
কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। ফাইল ছবি
মিরপুরের শাহ আলী মাজারের মানতের টাকা লুটপাটের উদ্দেশ্যেই সেখানে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কবি ও দার্শনিক ফরহাদ মজহার। হামলাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। শেখ এই দেশে টিকে থাকতে পারেননি। মাজারের টাকা লুটের চেষ্টা ও হামলা চালিয়ে আপনারাও টিকে থাকতে পারবেন না।
ঢাকার মিরপুর শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার বিকালে গণঅবস্থান ও ভাবগানের আসরে তিনি এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এই মাজারে হামলার প্রতিবাদে ‘সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ’ এবং ‘ভাববৈঠকী’ যৌথভাবে এই গণঅবস্থানের আয়োজন করে।
ফরহাদ মজহার বলেন, মাজারে যে মানতের টাকা ওঠে, তা পাগলদের হক। এই টাকা লুটের উদ্দেশ্যে গাঁজা খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তুলে হামলা করা হয়েছে। আমরা এই মাজারে ভাবগান করি। আমাদের ওপর আঘাত করা হলে আমরা চুপচাপ থাকব না; চুপিসারে আঘাত করা হলে আমরা রুখে দাঁড়াবো।
এর আগে মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তবে এই হামলার জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী না করে তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
ফরহাদ মজহার বলেন, এখানে ইজারা ব্যবস্থার নামে মাজারের টাকা লুটপাট হচ্ছে। ১০ হাজার টাকায় নেওয়া দোকান এক লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, এতে সরকারেরও রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই মাজার আমাদের, আমরা এটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখব; কিন্তু ইজারাদারের নামে পাগল ও ভক্তদের টাকা লুট করতে দেওয়া হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা জায়েদ বিন নাসেরের সভাপতিত্বে এবং ভাববৈঠকীর প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ রোমেলের পরিচালনায় গণঅবস্থানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বাসদের (মার্কসবাদী) নেতা জসীম উদ্দিন, এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকেই।
একই দিনে বিপুল সংখ্যক ভক্ত শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল করেন। আধা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি শাহ আলী এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এ সময় ভক্তরা ‘শাহ আলী মাজারে হামলা কেন, জবাব চাই জবাব চাই’, ‘ফকিরের গায়ে হামলা কেন, জবাব চাই জবাব চাই’, ‘জঙ্গিবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।