স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা
স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
তাদের দায়িত্ব হলো এতিমদের আগলে রাখা, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষা করা; কিন্তু সেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই গড়ে তুলেছেন একটি লুটেরা সিন্ডিকেট। রক্ষকই হয়ে উঠেছেন ভক্ষক। এতিমেরা পরিণত হয়েছে পণ্যে। এমন পরিস্থিতিই দেখা দিয়েছে রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা’য়। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ও অর্থ লুটেরা চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্বারস্থ হতে হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে।
এতিম শিশুদের আশ্রয়, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন নানা অনিয়ম, প্রশাসনিক জটিলতা ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণে আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, এতিমখানার একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এখানকারই কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর একটি সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠানটিকে কব্জায় নিয়ে দুর্নীতি-অনিয়ম করছে। ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর হাতে আসা নথিপত্র ও দীর্ঘ অনুসন্ধানেও এ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
শুরুতে এ প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘ইসলামিয়া এতিমখানা’। ১৯০৯ সালের মার্চে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে আহসান মঞ্জিলে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯১৩ সালের ৬ জুলাই সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইন ২১ (১৮৬০) অনুযায়ী এটি নিবন্ধিত হয়। পরে ১৯৬১ সালের স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশের অধীনে পুনরায় নিবন্ধন পায় (নং ২১৯/৬২)। এখন এটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে এখন রয়েছে ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে ১৮৭ জন এতিম শিশু। বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ৪৯ জন। যাদের মধ্যে ১৬ জনের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর থেকে এতিমখানাটি প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচিত কমিটি না থাকার সুযোগে একটি চক্র প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিমালিকানার আদলে পরিচালনার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তথ্য বলছে, এতিমখানার বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ‘যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর’ (আরজেএসসি) থেকে ‘স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা সোসাইটি’ নামে একটি নিবন্ধন নেওয়া হয়।
নিবন্ধন নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ৫ মার্চ ‘স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম অরফানেজ সোসাইটি’ নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির লালবাগ শাখায় দুটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয় (নং : ২০৫০৩২৮০১০০২৩৪৫১৪ ও ২০৫০৩২৮০১০০২৩৪৩১৫)। এতিমখানার সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় এবং জনসাধারণের দান-অনুদানের অর্থ ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সমাজসেবা অধিদপ্তরের নজরে এলে ওই বছরের ২৭ মার্চ নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করা হয়। অধিদপ্তরের আবেদনের পর ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল সোসাইটির নিবন্ধন বাতিল করে আরজেএসসি।
এই জালিয়াতির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হারুন অর রশীদ। যিনি এই এতিমখানায়ই লালিত-পালিত হয়েছেন। পরে প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিজের কব্জায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। বেতনভুক কর্মচারী হয়েও তিনি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদকের পদ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত একাধিক হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন। এ কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এতিমখানার নাম পরিবর্তন ও নতুন নিবন্ধন নেওয়ার প্রক্রিয়ায় হারুনের সঙ্গে খাজা আলী মাদানী, মো. শামীম উদ্দিন, কাজী রিয়াজ রহমান, মো. আবুল আহাদ শাকিল, জাহিদ হাসান ফাহাদ এবং মো. রাকিবুল হাসান রাজীবের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাজা আলী মাদানী নবাব স্যার সলিমুল্লাহর বংশধর বলেও দাবি করে থাকেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন থাকার পরও কেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আরজেএসসি থেকে নতুন নিবন্ধন নেওয়া হলোÑ এমন প্রশ্নের জবাবে খাজা আলী মাদানী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের একটি নিবন্ধন থাকার পরও অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিবন্ধন নেওয়া অবৈধ কিছু নয়।’ এতিমখানার কর্মচারীকে কীভাবে এবং কেন সাধারণ সম্পাদক করা হলোÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কথোপকথনের শেষ পর্যায়ে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
অভিযোগ, এই চক্রে জড়িত আছেন প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শাওনসহ আরও ১৬ জন বিতর্কিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। নথি বলছে, মো. আল আমিন শাওনের প্রত্যক্ষ মদদে ‘সোসাইটি’র নামে ইসলামী ব্যাংকের লালবাগ শাখায় অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া এতিমখানার মালামাল কেনার জন্য তিন সদস্যের একটি ক্রয় কমিটি থাকার পরও তিনি ওই কমিটিকে কোনো সুযোগ না দিয়ে একক সিদ্ধান্তে কাঁচামাল ও মুদি মালামাল ক্রয় করে থাকেন।
বিষয়টিকে ‘পুরনো ইস্যু’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এতিমখানার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শাওন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটা পুরনো বিষয়। আমি এতিমখানায় চাকরি করি। সোসাইটি নিবন্ধন নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত নই। নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রেও শুধু এতিমখানার তৎকালীন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছি। কোনো অনিয়মে যুক্ত নই।’
এতিমখানার অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পেলেও অভিযুক্তদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; দ্বারস্থ হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এতিমখানার শতবর্ষের ঐতিহ্য এবং এর সম্পদ রক্ষার স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে একটি চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংস্থা ও মামলা শাখার সরকারি সচিব আহসান হাবীব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে এতিমখানার সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদককে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুদক কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এখনও আমাদের জানানো হয়নি।’
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৪ মে এতিমখানার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার কর্মকর্তা মো. আজমল হোসেনকে। তার প্রধান দায়িত্ব ছিল ৯০ দিনের মধ্যে এতিমখানার অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আরও দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। চলতি মাসের ৪ মে তৃতীয় দফায় প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি চতুর্থ দফায় আরও মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন বলেও জানা গেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার ৬৫ দিন পর, গত বছরের ৮ জুলাই এতিমখানার প্রশাসনিক ও আর্থিক ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে তিন সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেন প্রশাসক আজমল হোসেন। এই কমিটিতে ঢাকা জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি পরিবর্তন হয়। পরে নতুন একজন সদস্য নির্বাচিত করে পুনরায় ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এতিমখানার নানা অনিয়মের চিত্র সামনে আসে। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এতিমখানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। আরও জানা গেছে, ২০২৩ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতির অগোচরে এবং গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি করে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স নির্ধারিত সীমার চেয়েও বেশি ছিল। এতিমখানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক কমিটির সদস্যদের আত্মীয়-স্বজন এবং কর্মচারীদের পরিচিতদের নিয়োগ দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। যেমনÑ সাবেক কমিটির সেক্রেটারির শ্যালিকা ও বোনকে নিয়ম ভেঙে সহকারী তত্ত্বাবধায়ক ও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গঠনতন্ত্রে না থাকার পরও রুটি কারিগর, ইলেকট্রিশিয়ান ও হল ইনচার্জের মতো পদ সৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নিয়মিত অডিট এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এতিমখানাটিকে সরাসরি সরকারিকরণের জোরালো সুপারিশও করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এতিমখানার বর্তমান প্রশাসক মো. আজমল হোসেনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয় উল্লেখ করে ১৩ এপ্রিল প্রশাসক সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পত্র পাঠান। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে কড়া নির্দেশ থাকলেও প্রশাসকের প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের একপ্রকার দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন আইনি যুক্তি যেমন আদালতের রায় বা নথিপত্রের অভাব দেখিয়ে অভিযুক্তদের বড় একটি অংশকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অথচ সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৪ জানুয়ারির চিঠিতে এসব সুপারিশ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এসব বিষয়ে মো. আজমল হোসেনের বক্তব্য নিতে প্রতিদিনের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তার দপ্তরে যাওয়া হয়। তিনি সব কথা শুনলেও এতিমখানার বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম) মোস্তফা মোস্তাকুর রহিম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে যৌথভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। দ্রুতই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’
এই প্রেক্ষাপটে পুরান ঢাকা নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ইকবাল কবির বলেছেন, ‘জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এতিমদের আশ্রয়কে পুঁজি করে পুরো প্রতিষ্ঠানটি গ্রাস করে নিচ্ছে। তাই এতিমখানাটি দ্রুত সরকারি করা জরুরি।’ তার মতে, ‘এটি সরকারি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার সহজ হবে এবং এতিম শিশুরা আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবে।’ এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।