প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ১৪:৫৯ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম
ঢাকার আগারগাঁওয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজি ঠেকাতে কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে।
এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকার আগারগাঁওয়ে সোমবার ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধনে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য
মন্ত্রী বলেন, নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে সারা দেশে নিয়মিত ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি ও উৎসবকেন্দ্রিক ট্রাকসেল পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, গত রমজানে ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গত ঈদুল আজহায় প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।
তিনি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতি বা বাজারে চাপ তৈরি হলে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু রাখা হবে।
জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগের তালিকায় থাকা এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
টিসিবিকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক ও প্রশ্নহীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাজার কারসাজি প্রতিরোধে নির্বাচিত নিত্যপণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা এআই-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণে আনা হবে।
এর মাধ্যমে সরকার বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় বড় ব্যবসায়ীরা এ খাতে সক্রিয় থাকেন।
তবে সরকার এমন অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে নতুন উদ্যোক্তারাও যুক্ত হতে পারেন।
তিনি বলেন, বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও কারসাজিমুক্ত বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা।