প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ১৬:০০ পিএম
আতাউর রহমান । ফাইল ছবি
ঢাকার মগবাজার মোড় এলাকা থেকে আতাউর রহমান নামের এক সাংবাদিককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা স্ট্রিমের’ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।
সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার হাতিরঝিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
ঘটনার বিবরণে আতাউর জানান, ঢাকার পান্থপথে অফিস শেষ করে সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বনশ্রীর বাসায় ফিরছিলেন তিনি। সে সময় সঙ্গে ছিলেন তার সাবেক সহকর্মী সাংবাদিক মহির মারুফ। মগবাজার সিগন্যালে রিকশা থেকে নেমে আতাউর যখন ভাড়া মেটাচ্ছিলেন, মারুফ তখন সিগন্যাল অতিক্রম করে আরেকটি রিকশা ভাড়া করতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে ঘটে ঘটনাটি।
সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে এসে আতাউরের দিকে তেড়ে যান। লাঠি হাতে নেমে আসা ওই ব্যক্তি তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। সে সময় এই সংবাদকর্মী তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে গাড়ি থেকে আরও তিনজন নেমে আসেন। তবে হট্টগোলের কারণে সেখানে লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্তরা আতাউরের বিরুদ্ধে গালি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।ৎ
অভিযুক্তরা মব সৃষ্টির মাধ্যমে উপস্থিত জনতাকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেন বলেও দাবি আতাউরের।
তিনি বলেন, ‘কাছাকাছি থাকা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে আসেন, এতে করে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে, তবে উপস্থিত জনতা তাদের বাধা দিলে অপহরণচেষ্টাকারীরা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মারুফ বলেন, ‘আমি সিগন্যাল ক্রস (অতিক্রম) করে পেছনে তাকিয়ে দেখি, একটি কালো প্রাইভেট কার সিগন্যালে থেমে আছে। গাড়ি থেকে একজন বের হয়ে আতাউর ভাইকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে ডেকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে দেখি, ইতোমধ্যে চারজন মিলে আতাউর ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় পথচারীসহ আমরা সবাই মিলে তাদের বাধা দিলে উল্টো তারা দোষ দেয় যে, তাদের নাকি গালি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আতাউর ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা গাড়িতে উঠে দ্রুত চলে যায়।’
এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গাড়িটির নম্বর শনাক্ত করা হয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে (এসআই) ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারা, কেন একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটালো, তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে।’