মার্কো পোলো
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১৪:৩২ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৬ ১৯:৪৬ পিএম
ঢাকার উত্তরায় মার্কো পোলো ঢাকা হোটেলের ব্যবসায়ীক অংশীদার মাহমুদুন নবী নাহিদ ও তার স্ত্রী নিশাত ওমিয়া হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরায় মার্কো পোলো ঢাকা নামের একটি হোটেলের ব্যবসায়িক অংশীদার মাহমুদুন নবী নাহিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ করেছেন হোটেলের অপর অংশীদার আজাদুর রহমান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসায় আজাদুর রহমান ২ কোটি ৫০ লাখ এবং নাহিদ ৯৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। ব্যবসা পরিচালনার জন্য আজাদ বেশির ভাগ অর্থ বিনিয়োগ করলেও নাহিদ গোপনে স্ত্রী নিশাত ওমিয়া হোসেনের নামে ট্রেড লাইসেন্স করেন। এতে আপত্তি জানান আজাদুর। পরে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব চুক্তি করতেও টালবাহানা করেন নাহিদ। এ ছাড়া আজাদের কাছ থেকে ভবনের ভাড়া বাবদ অর্থ নিয়ে তা ভবন মালিককে পরিশোধ করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নাহিদ ও তার স্ত্রী অংশীদারদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক আর্থিকপ্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন। বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ভবনের মালিক ও স্থানীয়রা মীমাংসার চেষ্টা করেন। নাহিদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হোটেল পরিচালনার দায়িত্ব পান আজাদুর।
আর্থিক অনিয়মের মীমাংসা না করেই নাহিদ পুনরায় হোটেল দখলের চেষ্টার পাশাপাশি হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী আজাদুর রহমান মুঠোফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আবাসিক হোটেল করার জন্য তিনি ও এস এম মাহমুদুন নবী নাহিদ যৌথভাবে ওই ভবন ভাড়া নেন। ভবন মালিকের সঙ্গে ১২ বছরের চুক্তি করা হয়। তার অভিযোগ, ব্যবসায় বিনিয়োগের তিন ভাগের দুই ভাগ অর্থ তিনি বিনিয়োগ করলেও অনৈতিকভাবে নাহিদ তার স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স করেন। ব্যবসায়িক লভ্যাংশ বা মূলধনও ফেরত দেননি। একদিকে নাহিদ ব্যবসায়িক অংশীদার করার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন, অপরদিকে ব্যবসা থেকে অসাধু উপায়ে ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন; যা নিরপেক্ষ অডিটে প্রমাণ মিলেছে।
অভিযুক্ত মাহমুদুন নবী নাহিদ মুঠোফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, তিনি ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে আজাদুর রহমানের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। লভ্যাংশসহ সব টাকা ফেরত দেবেন। তবে সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স মোতাবেক তার স্ত্রী ও তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে মুঠোফোনে জানান, যেহেতু বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে, সেহেতু এটার সামাধান আদালতে হবে।