প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৭ পিএম
বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রিকশা ঢাকার ঐতিহ্য হলেও বর্তমানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নাগরিকদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, সরকার অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করছে।
বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় রাজধানীর যানজট নিরসন ও জনভোগান্তি লাঘবে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরের শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে। নীতিমালায় জনভোগান্তি ও জীবিকা নির্বাহ উভয় বিষয়কেই ভারসাম্য করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিজাইন, গতি ও নিরাপত্তাবিশিষ্ট নির্দিষ্টসংখ্যক রিকশা রাস্তায় চলবে, যাতে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
ওই সময় ঢাকা শহরের বাইরে থেকে যারা অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরের প্রকৃত রিকশাচালক ও মালিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় ফেডারেশনের নেতারা জানান, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে প্যাডেলচালিত রিকশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে অনেক চালকই প্যাডেলচালিত রিকশা চালাতে আগ্রহী নন। ফলে কিছু মালিক লাইসেন্সযুক্ত প্যাডেল রিকশার কাঠামোতে ব্যাটারি সংযুক্ত করেছেন।
তারা দাবি করেন, লাইসেন্সকৃত যেসব প্যাডেল রিকশায় ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোকে নতুন নীতিমালার আওতায় বৈধতা প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকা শহরের স্থায়ী রিকশামালিক ও চালক ব্যতীত মৌসুমি রিকশা চালক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ২০২১ সালে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভ্যানকে চলাচলের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল, তবে বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট তীব্রতর হচ্ছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।