প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩২ এএম
আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩৫ এএম
যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর চার ঘণ্টা পর জামিন দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টায় শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন নামঞ্জুর করে দেড় মাসের সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানসহ শিল্পীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামির মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
তবে শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
এদিন দুপুর ২টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা আদালতে হাজির হন। তারা বলছিলেন, গত মাসের ৪ মার্চ আদ-দ্বীন হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় শিশু; মাতৃদুগ্ধ পান করে। বাথরুমে পড়ে বাম হাত ভেঙে গেছে শিল্পীর। বাচ্চাকে ঠিকমতো কোলেও নিতে পারে না, একা সামলাতে পারেন না। জামিন নাকচের আদেশ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী। শিল্পী অসুস্থ থাকায় আদালতপাড়ায় স্বজনরাই বাচ্চাকে কোলে করে রাখেন।
শিল্পী বলেন, “সিজারের কাটা জায়গায় এখনও ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে। আমার বাচ্চা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা, বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সাথে নেব না।” কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “রাজনীতির কারণে আমার এ অবস্থা, রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।”
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪-এর জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুলের ওপর হামলার পর তার বাসায় হামলা ও পাঁচ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনায় শিল্পী বেগমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় গত বছরের ১ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা শাহনূর খানম সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ ১০৩ জন এবং অজ্ঞাত আরও ১২০-১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।