প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪১ পিএম
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৫৭ পিএম
নিহত মো. ইমন। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার মোহাম্মদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ‘অ্যালেক্স ইমন’ গ্রুপের দলনেতা মো. ইমন নিহত হয়েছেন।
রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী সড়কের বেড়িবাঁধ এলাকায় রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নিহত ইমন চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ ১৮টি মামলার আসামি। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ হয়েছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া এবং নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে মোহাম্মদপুর এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অ্যালেক্স ইমন গ্রুপ এবং আরমান-শাহরুখ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই রবিবার বিকালে দুই গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের সদস্যরা ইমনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইমনকে উদ্ধার করে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজা উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, নিহত ইমন একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। ইমন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছেন। আটকরা হলেন— মো. সাইফ, তুহিন ও রাব্বি কাজী। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, একটি কাটার এবং একটি স্টিলের পাত উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, মোহাম্মদপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব গ্যাং সদস্যরা ছিনতাই, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং দখলদারত্বের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে নিহত ইমনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।