× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ফুটপাত নিশ্চিতে কাজ করছে ডিএনসিসি: প্রশাসক

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২৯ পিএম

গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে মঙ্গলবার আয়োজিত ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি  শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে মঙ্গলবার আয়োজিত ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি পথচারী। তাই পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা পেলে দ্রুত সময়ে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

গুলশানে ডিএনসিসির সভাকক্ষে মঙ্গলবার আয়োজিত ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিত’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক এসব কথা বলেন।

ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কারিগরি সহায়তায় ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঢাকা শহরের সড়কে সংঘটিত রোড ক্র্যাশে মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত সাধারণ ডায়েরি ও মামলা বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিএনসিসি ও ডিএমপি’র যৌথ উদ্যোগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

অনুষ্ঠানে ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিআইজিআরএস-ঢাকার সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী। 

তিনি জানান, ডিএমপি’র রেকর্ড অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ সালে ঢাকা শহরের সড়কে রোড ক্র্যাশে মোট ৫৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ (৩০৩ জন) পথচারী, ২৪ শতাংশ (১২৮ জন) মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ (৪১ জন) রিকশা ব্যবহারকারী। লিঙ্গভেদে নিহতদের ৮০ শতাংশ পুরুষ এবং বয়সভেদে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার বেশি। অর্থাৎ, সড়কে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই কর্মক্ষম বয়সের মানুষ।

তিনি আরও জানান, দিনের তুলনায় রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি। এসব দুর্ঘটনার পেছনে প্রধানত বেপরোয়া বাস ও ট্রাক দায়ী। প্রতিবেদনে ঢাকার বিভিন্ন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড় চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখিত সময়ে যাত্রাবাড়ী মোড় ও বিমানবন্দর মোড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন করে এবং আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ১০ জন মারা গেছেন। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আর্মি গলফ ক্লাব বাস স্ট্যান্ড থেকে আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন, যা প্রতি কিলোমিটারে গড়ে ৮ জনেরও বেশি মৃত্যুর সমান। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী, বিশেষ করে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পথচারী, যাত্রী ও চালকসকল সড়ক ব্যবহারকারী যদি সচেতন হন এবং আইন মেনে চলেন, তবে সড়ক অনেকাংশে নিরাপদ হয়ে উঠবে।

ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদনে চিহ্নিত ডিএনসিসির আওতাধীন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও মোড়সমূহ পুনঃনকশা করা হবে, যাতে সড়কে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো যায়। বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা, উন্নত ও প্রশস্ত ফুটপাত এবং জেব্রা ক্রসিং স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিআইজিআরএস-এর সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত পরিবর্তন এবং যথাযথভাবে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিএমপি ও ডিএনসিসির যৌথ উদ্যোগে ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল উপযোগী করা হচ্ছে।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর টেকনিক্যাল এডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, মৃত্যু কেবল একটি সংখ্যা নয়; বরং এটি স্বজন হারানো পরিবারের জন্য আজীবনের বেদনা। তাই রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন চালানোর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)-এর সিনিয়র রোড সেফটি স্পেশালিস্ট মো. মামুনুর রহমান, বিআরটিসি’র মহাব্যবস্থাপক (পরিচালনা) মেজর মো. নিজাম উদ্দিন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর সহ-সভাপতি এসএম আজাদ হোসেন, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট-এর কনসালটেন্ট ফারজানা ইসলাম তমা, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান এবং সেন্টার ফর ইনজ্যুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন।

বিআইজিআরএস সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ডা. ওয়াতিন আলম এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়ালি নোমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা