শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৩৭ পিএম
রাতের অন্ধকারে রেলালাইনে আসছে একটি ট্রেন। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের শিশু পুত্রকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন মিতি রানী দাস (৩৫) নামের এক নারী।
উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিনে (আউটার সিগনাল) সংলগ্ন স্থানে শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতি রানী উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের চিনাশুখানিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক হরে কৃষ্ণের স্ত্রী। তাদের শিশু পুত্র রুদ্র দাস (৩)। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসের বিপশটের পেছনে রেল লাইন ঘেষে ওই নারী শিশুকে নিয়ে বসে ছিলো। সকালে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন আসলে হঠাৎ করেই নারী শিশুকে ক্যলে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলে ঘটনাস্থলেই নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিনাশুকানিয়া গ্রামের লোকমান হোসেন বলেন, হরে কৃষ্ণের স্ত্রীর সঙ্গে তার দেবর প্রাণ কৃষ্ণের সকালে পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে অভিমানে হরে কৃষ্ণের স্ত্রী মিতি রানী ছেলে রুদ্রকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ বাড়িতে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয় তারা মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে দেবরের সাথে কথা কাটাকাটির জেরে অভিমানে ওই নারী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে আত্নহত্যা করতে পারে।
নিহতের স্বামী হরে কৃষ্ণের নাম্বারে ফোন করলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রাজাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহারিন সাফফাত জেরিন বলেন, “পারিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সকালে দেবর প্রাণ কৃষ্ণের সঙ্গে তার ভাবির কথা-কাটাকাটি হয়েছে। এতে অভিমানে বাড়ী থেকে বের হয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্নহত্যা করে থাকতে পারে”।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম আলী জানান, রাজেন্দ্রপুর এলাকায় রেললাইনে চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মিতি রানী দাস ও তার শিশু পুত্র রুদ্র দাস নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। সকালের দিকে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা গেলেও সন্ধ্যায় তাদের পরিচয় সনাক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে পিবিআই তাদের পরিচয় সনাক্ত করেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে”।