কাউসার আহমেদ
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৯ এএম
ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে শেষ মুহূর্তের কানাকাটায় ব্যস্ত নগরবাসী। নিউ মার্কেট এলাকায় বাজার পুরোদমে জমে উঠেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে। ঈদের দিন এগিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। এতে শপিংমল থেকে ফুটপাতÑ সবখানেই দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। পুরোদমে জমে উঠেছে কেনাকাটা। আর এতেই স্বস্তি প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা। কারণ বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদ মৌসুমেই বিক্রি বাড়ে কয়েক গুণ।
ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর শাহজাদপুরের সুবাস্তু শপিংমলে কেনাকাটা করতে আসা রাশেদা বেগম বলেন, ‘দোকানগুলোতে এত ভিড় যে ভালো পণ্য খুঁজে বের করাই কঠিন। তবুও কিনতে তো হবে, তাই এসেছি।’ ছোট মেয়ের জন্য একটি স্কার্ট কিনেছি জানিয়ে তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে কেনাকাটাতেও মনে হচ্ছে তুলনামূলক কম দামেই পেয়েছি। বড় ছেলের জন্য একটি পাঞ্জাবিও কিনলাম।’
শুধু রাশেদা বেগমই নন, এমন অসংখ্য ক্রেতা শেষ মুহূর্তে শপিংমল ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর সুবাস্তু শপিংমল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটের সামনের ফুটপাত, বাড্ডা এলাকার ফুটপাত ও যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের শুরুতে যত সংখ্যক মানুষের ভিড় ছিল এখন তা বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেক স্থানেই বিকাল গড়াতেই ক্রেতাদের ভিড়ে হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে পড়ে। বিক্রেতাদের অনেকে জানান, ঈদের আগের কদিন নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নেই। সকাল থেকেই দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা। বিকালের দিকে ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ইফতার ও তারাবির নামাজের পর অনেক শপিংমলেই মানুষের ঢল নামে। ক্রেতার চাপ সামাল দিতে অনেক দোকান গভীর রাত পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারাও মুলামুলি করে পছন্দের পোশাক কিনছেন।
কটন গ্যালারির মালিক রশিদ হায়দার বলেন, ‘একটার পর একটা কাপড় দেখাতে হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েকজন কাস্টমার আসে। কখনও কখনও একটু বিরক্ত লাগে, কিন্তু এই সময়টাতেই তো ব্যবসা ভালো হয়। সারা বছর যে পরিমাণ বিক্রি হয়, ঈদের সময় তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।’
এবারে ঈদের বাজারে পোশাকের বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো। গত এক দশক ধরে ভারতীয় সিরিয়ালের পোশাকের দাপট থাকলেও এবারের ঈদে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানি পোশাক। পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও চীনের তৈরি পোশাকের প্রতিও আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। বিশেষ করে থ্রি-পিস, কুর্তি ও সুতির পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
সুবাস্তু শপিংমলে শাড়ি ও থ্রি-পিসের দোকান পরিচালনা করেন ফয়সাল কবির। প্রায় ১৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘ঈদের আগের দিনগুলোতেই বিক্রি বেশি। তাই আমরা এই সময়টার অপেক্ষা করি। ভিড় হলে আমাদেরই লাভ। এই সময় যত বেশি কাস্টমার আসবে, তত বেশি বিক্রি হবে।’ ভিড়ে বিরক্ত হন নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজই তো মানুষকে পণ্য দেখানো আর বিক্রি করা। এটাই আমাদের জীবিকা। তাই ভিড় বাড়লে আমরা খুশিই হই।’
একই মার্কেটে ‘শাড়ির বাহার’ নামের দোকানে পার্টটাইম কাজ করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদ যত কাছে আসছে ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। একটা পণ্য দেখাতে দেখাতে আরেক কাস্টমার বলেনÑ মামা ওইটা দেখান। দম ফেলার ফুরসত মেলে না।’ তবে রাস্তায় তীব্র যানজট নিয়ে কিছুটা ক্ষোভও প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রামপুরা থেকে সুবাস্তু আসতে দেড় ঘণ্টা লেগেছে। অনেক গাড়ি যেখানে-সেখানে পার্কিং করছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।’ তবে সবকিছুর মাঝেও বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্রি ভালো। এখন শেষ কয়েকটা দিন ভালোভাবে বিক্রি করতে পারলেই হলো।’ দোকানটিতে কোন ধরনের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত পোশাক আছে। এর মধ্যে সুতির কাপড়ই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। সামনে গরমকাল আসছে, তাই ক্রেতারা হালকা রঙের সুতির কাপড়ই বেশি পছন্দ করছেন।’
বাজার ঘুরে দেখা গেছেÑ শুধু শপিংমলই নয়, ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কম দামের কারণে অনেকেই ফুটপাতের দোকান থেকে পোশাক কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে বাড্ডা ও বসুন্ধরা গেট এলাকার ফুটপাতেও সন্ধ্যার পর মানুষের ভিড় বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের এই মৌসুমই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসার সময়। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড়কে তারা সুযোগ হিসেবে দেখছেন।