ঢাকা-১৫ আসন
ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯ এএম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৬ পিএম
ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর একটি মিরপুর ও কাফরুল ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসন। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটাররা এখানে কোন প্রার্থীর দিকে হেলবেন, তার ওপর নির্ভর করছে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষ ফলাফল।
প্রসঙ্গত, ঢাকা-১৫ আসনে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও আলোচনার
কেন্দ্রে রয়েছেন মূলত বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো.
শফিকুর রহমান এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকে।
এ দুই প্রার্থীরই এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়া এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী
মো. সামসুল হক (প্রতীক লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী আহাম্মদ
সাজেদুল হক (কাস্তে), জনতার দলের শোয়েব আমান উল্লাহ (কলম), বাংলাদেশ জাসদের মো. আশফাকুর
রহমান (মোটরগাড়ি), আমজনতার দলের মো. নিলাভ পারভেজ (প্রজাপতি) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম
পার্টির মো. মোবারক হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা ভোটের
হিসাবে কার্যত কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিরপুর-১০ নম্বরে বিএনপি
প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় উপস্থিত থেকে দলের প্রার্থীকে জয়ী করার অনুরোধ করেন। এরপর
থেকে এই আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নিয়ে
গঠিত ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯
হাজার ৬১৬ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
রাজধানীর আসন হলেও ভোটার সংখ্যার দিক থেকে এটি দেশের অন্যতম বড় কেন্দ্র।
মিরপুরের অলিগলি থেকে কাফরুল : সরেজমিনে
মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পাইকপাড়া ও কাফরুল এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনী
প্রচার থাকলেও অনেক ভোটারই এখনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের
এক দোকানদার বলেন, ‘দুই বড় দলই কথা বলছে উন্নয়ন আর নিরাপত্তার। কিন্তু রাজধানীতে আমাদের
সমস্যা একই রকমÑ যানজট, বাসাভাড়া, চাকরি। কে এলে এসবের সমাধান করবে, সেটাই ভাবছি।’
এই মন্তব্য রাজধানীর মধ্যবিত্ত ভোটারদের মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
কাফরুল ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আশপাশে বসবাসরত অনেক ভোটার আবার তুলনামূলকভাবে
নীরব। সেনানিবাস-সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রচার সীমিত থাকলেও ভোটারদের মধ্যে জাতীয়
রাজনীতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এখানে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী জানান, ‘আমরা দল
দেখে নয়, পরিস্থিতি দেখে ভোট দেই। কারা স্থিতিশীলতা আনতে পারবে, সেটাই বিবেচ্য।’
শক্তিশালী ফ্যাক্টর আওয়ামী ভোটার : ঢাকা-১৫
আসনে আওয়ামী লীগের সরাসরি প্রার্থী না থাকলেও দলটির সমর্থক ভোটারের সংখ্যা কম নয়। এবার
তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের একটি
বড় অংশ ভোট দিতে না গেলে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। আবার যদি
তারা কৌশলগত ভোট দেন, তবে ফলাফল নাটকীয়ভাবে পাল্টে যেতে পারে। এই সমীকরণের ফলে ঢাকা-১৫
আসন হয়ে উঠেছে সবচেয়ে আলোচিত।
নারী ও তরুণ ভোটারদের ভূমিকা : এ
আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের প্রায় সমান। পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য তরুণ ভোটার। সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় এই তরুণরা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা নিয়ে বেশি কথা
বলছেন। মিরপুরের একটি কলেজের শিক্ষার্থী বলেন, ‘যিনি আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কথা
বলবেন, তাকেই ভোট দেব।’
নারী ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা, যাতায়াত ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবার
বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক নারী ভোটার জানিয়েছেন, তারা দলীয় রাজনীতির চেয়ে স্থানীয়
সমস্যার সমাধানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে ঢাকা-১৫ আসনটির ভোটের ফল এবার অনিশ্চিত সমীকরণের মুখে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই স্পষ্ট হলেও আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটার, নারী ও তরুণ ভোটারদের সিদ্ধান্তই এ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে।