পাঁচ মাসে ৫ লাশ উদ্ধার
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১২ পিএম
পরিত্যক্ত এই কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের ২৯ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সময়ে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি ব্যবহার হয় না দীর্ঘদিন। পরিত্যক্ত এ ভবনে রবিবার দুপুরের দিকে প্রস্রাব করতে যান সাভার কলেজের একাধিক ছাত্র। সে সময় ভবনের দ্বিতীয় তলার এক কক্ষে দুটি পোড়া মরদেহ দেখতে পান তারা।
দেরি না করে বিষয়টি তারা জানান জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে। সে কলের ভিত্তিতে শুরুতে ঘটনাস্থলে যায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। খবর পেয়ে ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি-উত্তর) পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) লাশটি শনাক্তে গিয়ে বিকেল পাঁচটা নাগাদ কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। পিবিআইয়ের ধারণা, একটি লাশ নারীর। অপরটি ছেলেশিশুর।
পুলিশের ভাষ্য, পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের ২৯ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সময়ে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) হেলাল উদ্দিন জানান, একই ভবন থেকে গত বছরের ২৯ আগস্ট রাতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ১১ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাত এক নারী এবং ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে আগুনে পোড়া পুরুষের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা এমনভাবে মরদেহগুলোকে পুড়িয়ে হত্যা করে যে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এর আগে একই ভবন থেকে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনেরও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
‘সর্বশেষ একটি মরদেহ উদ্ধারের পর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে কমিউনিটি সেন্টারটিকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করব।”
ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। একটি মরদেহ নারীর বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সেটি নিশ্চিত নয়। “পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। দ্রুতই ঘটনার কারণ, উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”