প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৬ পিএম
অক্টোবর মাস বিশ্বব্যাপী ‘পিঙ্ক মান্থ’ বা স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ‘আমরা নারী’ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর যৌথ উদ্যোগে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (৮ নভেম্বর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. লায়লা শিরিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. খাদেমুল বাশার ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্যসেবা উপকমিটির সদস্য মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান।
অধ্যাপক ডা. লায়লা শিরিন বলেন, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নিজের প্রতি যত্নশীল থাকা। প্রতিটি নারী যদি নিজের শারীরিক সুস্থতা সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলে উপকৃত হবে পুরো পরিবার ও সমাজ।
ডা. মো. খাদেমুল বাশার বলেন, ক্যান্সারমুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষার্থীদের মধ্যেই স্বাস্থ্য সচেতনতার বীজ বপন করতে হবে। শিক্ষাঙ্গন থেকেই সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করা জরুরি।
আমরা নারী-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এম. এম. জাহিদুর রহমান (বিপ্লব) বলেন, আমরা নারী একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সংগঠন, যা নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নারীর অধিকার, নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সচেতনতা বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সচেতনতার দূত হিসেবে গড়ে তোলা।
আমরা নারী'র নির্বাহী সদস্য রোখসানা আক্তার রূপী বলেন, স্তন ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য বাস্তবতা। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৩,০০০ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার অর্ধেকের বেশি সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। অথচ নিয়মিত আত্মপরীক্ষা, সচেতনতা ও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এই মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্তন ক্যান্সার তখনই সৃষ্টি হয়, যখন স্তনের কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা বজায় রাখলে সহজেই শনাক্ত ও নিরাময় সম্ভব।