প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ২৩:৫৯ পিএম
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (অর্থ) এসএম লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিমূলক বদলির অভিযোগ উঠেছে। বেবিচকের দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিষয়টি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বেবিচকের উন্নয়ন কাজের বিল আটকে রেখে ঘুষ নেয়া বেবিচকের সদস্য (অর্থ) এস এম লাবলুর প্রকাশ্য ঘটনা। পছন্দের ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রকৌশলীদের নানাভাবে হয়রানি করেন। সম্প্রতি একজন সহকারী প্রকৌশলীকে অফিসে ডেকে নিয়ে চাকুরিচ্যুতির হুমকি দেন। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, শরীফুল নামের তার এক পছন্দের ঠিকাদারকে একজন সহকারী প্রকৌশলীর নিকট পাঠান। তার আদেশ ছিল ওই ঠিকাদারকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দিতে হবে। কিন্তু এটি গোপনীয় বিষয় হওয়ায় ওই সহকারী প্রকৌশলী দিতে অস্বীকার করায় তাকে চাকুরিচ্যুতির হুমকি দেয়া হয়।
নাম প্রকাশ না শর্তে ভুক্তভোগী সহকারী প্রকৌশলী বলেন, মূল্যায়ন প্রতিবেদন গোপন বিষয়। এটি ঠিকাদারকে দেয়া হয়না। তার কাজের ওপর ভিত্তি করে তিনি বিল পান। কেউ যদি কাজের মান খারাপ করেন, তবে তার বিল মূল্যায়ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে আটক দেয়া হয়। পরবর্তীতে ওই কাজ সঠিকভাবে করার পর তার বিল হয়। ওই সহকারী প্রকৌশলী আরও বলেন, মেম্বার অর্থের নাম ভাঙ্গিয়ে ঠিকাদার শরীফুল ইসলাম তাকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দিতে বলেন। কিন্তু তিনি সেটি না দেয়ায় পরবর্তীতে মেম্বার অর্থ তাকে হুমকি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, একইভাবে প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের নাজেহাল করেন। তার কথা না শুনলে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়। বিশেষ করে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শরীফুল ইসলামকে দিতে চাপ দেন।
আলফাজ উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, মেম্বার অর্থের ঘুষ বেবিচকে অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। এখানে টাকা না দিলে কোন বিল পাশ হয়না। তিনি আরও বলেন, হাফিজের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয় এটা সবাই জানে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেন, তার এই সকল অপকর্মের কারণে উপদেষ্টার নিকট লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত তার অপসারণ করা না হলে আবারও আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
তবে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শরীফুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে এসব অভিযোগ সত্য। এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (অর্থ) এসএম লাবলুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।