× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অন্ধকারে ঝিলমিল

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৫ ০৯:২১ এএম

অন্ধকারে ঝিলমিল

আধুনিক নগরায়ণের সব সুযোগ-সুবিধা পেতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আবাসনে প্লট পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন বহু মানুষ। কেউ তদবির করেন, কেউ বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকেন। তবে এর বিপরীত চিত্র পাওয়া যায় রাজউকের ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে। এখানে প্লট পেয়েও বিপাকে পড়েছেন মালিকরা। নিরাপত্তাহীনতা, ইউটিলিটি সেবার অভাব এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে অনেকেই এখনও ভবন নির্মাণে এগোতে পারছেন না। ঝিলমিল এখন প্লট মালিকদের কাছে এক অন্ধকার অধ্যায়ের নাম। 

রাজউক, আইএমইডি ও দুদকের তথ‍্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুরু থেকেই প্রকল্পটিতে অবহেলা ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের আড্ডাস্থল ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়। ৩৮ কোটি টাকা ব‍্যয় করে আবাসন এলাকায় রাস্তা না থাকলেও প্রকল্পের বাইরে রাস্তা করা হয়। ভুয়া কাগজে প্রভাবশালী আমলাদের ১৫ ড্রাইভারকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংরক্ষিত কোটায় থাকা প্লটের চেয়ে ৩২টি প্লট বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের প‍্রাপ‍্য প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। কোনো প্লটে সুপেয় পানির লাইন স্থাপন করা হয়নি, বিদ‍্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি অনেক প্লটে। পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এছাড়া, গ্যাস সরবরাহের কোনো ব্যবস্থাই এখনও নেওয়া হয়নি।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার (ডিপিপি) তথ‍্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর আবাসন সমস্যা সমাধানের উদ্দেশে‍ ১৯৯৮ সালে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কঘেঁষে কেরানীগঞ্জে ১৬০ একর জমিতে নেওয়া হয় ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প। এরপর ২০১৭ সালে আবাসিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন কাজের জন্য ৪০৩ কোটি টাকা ব‍্যয়ে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে শেষ হয়েছে। আট বছরে কাজ হয়েছে মাত্র ৫২ শতাংশ।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘এটা পুরোপুরি রাজউকের ব্যর্থতা। এত বছরেও কেন আবাসন এলাকাটি বসবাসের উপযোগী হলো না? পুরো বিষয়টি পরিকল্পনাগত দুর্বলতা বলে মনে করি। এজন্য এখনই রাজউককে সুষ্ঠু সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।’

স্বপ্নভঙ্গ, সন্ত্রাসীদের উৎপাত, জমি দিয়েও বরাদ্দে অবহেলিত 

উত্তরায় প্লট বরাদ্দ পেলেও অনেকে ভালোবেসে থাকতে চেয়েছিলেন কেরানীগঞ্জেই। এজন্য বহু স্বপ্ন নিয়ে ঝিলমিলের পাঁচ কাঠার প্লটে নির্মাণ শুরু করেছিলেন বহুতল ভবন। তবে পাঁচতলা পর্যন্ত করেই বুঝতে পারলেন এটি তার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এই প্লটের মালিক শেখ আব্দুর ছালাম জানান, ঢাকার অন‍্য কোথাও তার কোনো জমি নেই। রাজউকের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমের আধিক্যের কারণে তিনি ও অন্য মালিকরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ঝিলমিল এলাকায় বাজার, মসজিদ, স্কুল, ছোট খেলার মাঠ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ সেখানে বসবাসে আগ্রহী নয়। সন্ত্রাসী কার্যক্রম সার্বক্ষণিক চলতে থাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণেও মানুষ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ফলে, তিনি পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মিত ভবনটি ভাড়া দিতে পারছেন না। যারা ভাড়া নেন, তারাও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এক মাসের বেশি থাকতে চান না। ফলে ফ্ল‍্যাট খালি থাকে বেশিরভাগ সময়।

একই সমস্যার কথা বলেন কাজী মোহাম্মদ তাজদীর আহমেদ। জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রথমে পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দের কথা রাজউক চিঠি দিয়ে জানালেও পরবর্তীতে আড়াই কাঠার প্লট বরাদ্দ পায় তার পরিবার। তিনি জানান, ১৯৯৫ সালে তার বাবা ১৯.৫ শতাংশ জমি কেনেন। পরবর্তীতে ২০০০ সালের দিকে রাজউক একটি আদেশ জারি করে, যেখানে বলা হয় যে যাদের জমির পরিমাণ ১৭ কাঠার বেশি, তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ কাঠার প্লট পাবেন। 

সেই অনুযায়ী, তার বাবা রাজউকে আবেদন করেন এবং তিন লাখ টাকা জমা দেন। ২০০০ সালের শেষের দিকে রাজউক থেকে একটি চিঠি আসে, যেখানে জানানো হয় যে তার বাবা কাজী দিলরুবার নামে ৫ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী কয়েক বছর রাজউকের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। 

তবে ২০১০ সালে একটি নতুন চিঠির মাধ্যমে জানানে হয় যে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে সব মালিকের জন্য প্লটের পরিমাণ ২.৫ কাঠা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্বের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ছিল। সে সময় কাজী তাজদীর খুব ছোট ছিলেন, আর তাদের পরিবার যেখানে চার ভাই, মা ও বাবা ছিলেন। এই ১৯ শতাংশ জমি একমাত্র সম্বল ছিল। ২০১৭ সালে তার বাবার মৃত্যু হলে পরিবারের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু কোথায় গেলে তাদের ন্যায্যতার দাবি আদায় করা সম্ভব হবে, তা জানা ছিল না। 

তিনি আরও জানান, ২০২২ সালে, পাশের এলাকায় নানাবাড়ি থাকায় বাড়ির কাজ শুরু করেন। নির্মাণকালে নানা বাধা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সম্মুখীন হলেও কাজ চালিয়ে যান। প্লটের সঙ্গে সংযোগকারী কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের উদ্যোগে সেফটি ট্যাংক ও সাব-মার্জিবল ট্যাংক স্থাপন করতে হয়েছে। এ ছাড়া, দূরের পিলার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ আনতে গিয়ে প্রচুর ব্যয় ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও রাজউক থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়নি, এমনকি যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মূল্যায়ন করেনি বলে অভিযোগ তার।

কাজের চেয়ে অকাজে খরচ বেশি

ঝিলমিল আবাসন এলাকার সড়ক নির্মাণ না করে প্রকল্পের টাকায় অন‍্য এলাকার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব‍্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সরকারের অডিট আপত্তিতে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আমিনুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অডিট আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মালামাল যখন সরিয়ে নেওয়া হয় তখন রাস্তা খানাখন্দকে ভরে যায়। এজন্যই মূলত রাস্তাটা করতে হয়েছে।’ 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল‍্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে ৬৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ স্থাপনের কাজ এখনও অবশিষ্ট রয়েছে এবং জনবসতির অভাব ও নিরাপত্তাজনিত বিষয় বিবেচনায় স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কাজও মাত্র ৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, সীমানা, রোড নামফলক উন্নয়ন কাজ ও ড্রেন নির্মাণ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। সামগ্রিকভাবে, প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনাগত জটিলতা ও রাজউকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে। 

কাজে হ-য-ব-র-ল অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মসজিদ নির্মাণ শেষ না করে সেখানে লিফট স্থাপন করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজের ভবন নির্মাণ শেষ না করেই জেনারেটর ও লিফট সংযোগ করার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। একইভাবে, ড্রেন নির্মাণ শেষ না করে রোড সাইনেজের কাজ শুরুর পরিকল্পনাও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব দুর্বলতা প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এনেছে এবং ক্রয় কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি করেছে, যা পুরো প্রকল্পের অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে।

তীব্র পানির সংকট, রাজউকের প্রতি অসন্তোষ 

এই প্রকল্পের প্লট মালিকদের নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে আইএমইডি। জরিপে একজন মালিকও রাজউকের কার্যক্রমে অত‍্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেনি। ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন, অর্থাৎ তারা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট মতামত দেননি। অসন্তুষ্টদের সংখ্যা ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ইঙ্গিত করে যে, অধিকাংশ প্লটমালিক রাজউকের ব্যবস্থাপনায় জরিপে অংশ নেওয়া ১২৯ জন উত্তরদাতা প্রকল্পে ইউটিলিটি সার্ভিস (ওয়াসা, বিদ্যুৎ ইত্যাদি সেবা) গ্রহণে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। উত্তরদাতার জানিয়েছেন, প্রতিটি প্লটে বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও প্রদান করা হয়নি। যদিও কিছু এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে, তবে লাইন সংযোগ দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সীমিত কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। তবে পুরো এলাকায় তা এখনো পৌঁছায়নি। পানির সংযোগের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ওয়াসার কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি এবং কোনো প্লটে সুপেয় পানির লাইন স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে বাসিন্দারা পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থারও কোনো উন্নয়ন হয়নি। পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া, গ্যাস সরবরাহের কোনো ব্যবস্থাই এখনও নেওয়া হয়নি। পুরো এলাকায় গ্যাসের লাইন স্থাপনের কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। নিরাপত্তার দিক থেকেও এলাকাটি পিছিয়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবকাঠামোর দিক থেকেও অনেক ঘাটতি রয়েছে। রাস্তাঘাটের কিছু অংশ নির্মাণ করা হলেও তা এখনও অসম্পূর্ণ। সামগ্রিকভাবে, এলাকাটি এখনও বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। 

এসব বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, পল্লী বিদ‍্যুৎ থেকে তার পোল স্থাপন করা হয়েছে। যখন কেউ বাড়ি করেন তখন তার টেনে দেওয়া হয়। পোল থেকে তার চুরি হওয়ার ভয়ে তার আগে লাগানো হয় না। সবাইকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ‍্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ওয়াসার প্রত‍্যেক প্লটে পানি দেওয়া আছে। ডিমান্ড পেলে আমরা পানির সংযোগ দিয়ে দিব। আমরা বেশ কয়েক ধাপে প্রকল্পের ব‍্যয় কমিয়ে এনেছি এবং নতুন কোনো খাত যুক্ত করিনি। আমি প্রকল্পে ২০২৩ সালে যোগ দেই। এসব বিষয়ে আরও জানার জন্য আগের পিডির সঙ্গেও কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। 

তিনি বলেন, প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরু হলেও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মালামাল আমাদের প্রকল্পে রাখার কারণে কাজ শুরু করতে হয় ২০২০ সালে। নিরাপত্তার জন্য থানাও করছি। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ঝিলমিল আবাসনে স্থানান্তর হবে। পাসপোর্ট অফিস আছে। আর ফায়ার সার্ভিসকে যায়গা বুঝিয়ে দিয়েছি। ইতোমধ্যে ১৫টি বাড়ি করা হয়েছে।

আবাসনে ময়লার ভাগাড়

দীর্ঘ সময় খালি ফেলে রাখায় প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ঝিলমিল আবাসিক এলাকার আশপাশে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকেই বর্জ্যে ঠাসা। বিশেষ করে প্রকল্প এলাকার পাসপোর্ট অফিসের দুই পাশ ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে বর্জ্যে ভরে গেছে। এমনকি ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা খালটিও রক্ষা পায়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বর্জ্যের ঠিকাদাররা ঝিলমিল ও আশপাশের এলাকায় রাতের আঁধারে ও ভোরে ময়লা ফেলে যায়। লোক বসতি না থাকায় কেউ নিষেধও করে না। বর্জ্যের গন্ধে তাই ঝিলমিল আবাসিক এলাকার পাশ দিয়ে চলাচল করাই যেন এখন কষ্টসাধ্য।

নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘আমাদের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। ঢাকায় বাইরে ঝিলমিলসহ যে আবাসন গড়ে উঠছে এখানে কোথায় ল্যান্ডফিল হবে, কোথায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন হবে কোনো প্ল্যান নেই। মানুষ দেখেছে বছরের পর বছর ঝিলমিল খালি পড়ে আছে। আস্তে আস্তে তাই সেখানে বর্জ্য ফেলতে শুরু করেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, ময়লার ভাগাড় সরিয়ে ফেলছি। যেসব রাস্তা দিয়ে ময়লা ঢুকত সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি। এখন ময়লা ঢুকতে পারে না। 

ভুয়া অবদানে প্লট বাগিয়ে নিয়েছে আমলাদের ১৫ গাড়িচালক

অসামান্য অবদান ক‍্যাটাগরিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ১৫ জন গাড়িচালককে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বৃহস্পতিবার জানান, নথিপত্রে চালকদের ‘অসামান্য অবদান’ সম্পর্কিত কোনো ব্যাখ্যা, যোগ্যতা বা সরকারি মূল্যায়নের দলিল পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবী, জনসেবা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নামে এই ক‍্যাটাগরিতে প্লট বরাদ্দ হয়। 

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শেখ হাসিনার দপ্তরের ১৫ চালকের মধ্যে প্রতি দুইজনের অনুকূলে তিন কাঠা এবং তিনজনের অনুকূলে পাঁচ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্লট পাওয়া চালকদের মধ্যে রয়েছেন ভিভিআইপি গাড়িচালক মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সফিকুল ইসলাম, ভিভিআইপি অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. নূরুল ইসলাম লিটন, মুখ্য সচিবের গাড়িচালক মো. রাজন মাদবর, সচিবের চালক মো. মাহবুব হোসেন, একান্ত সচিব-১ ও ২-এর চালক মো. শাহীন ও মো. মতিউর রহমান, সহকারী একান্ত সচিবদের চালক মো. নূর হোসেন বেপারী ও মো. বোরহান উদ্দিন, বিশেষ সহকারীর চালক মো. বেলাল হোসেন, চিফ ফটোগ্রাফারের চালক মো. মিজানুর রহমান, প্রটোকল অফিসার-১-এর চালক মো. বাচ্চু হাওলাদার, একান্ত সচিব-১-এর চালক মো. নুরুল আলম, বিশেষ সহকারীর চালক মো. নুরনবী (ইমন) এবং প্রটোকল অফিসার-২-এর গাড়িচালক মো. শাহীন। 

কোটার চেয়ে অতিরিক্ত ৩২ প্লট বরাদ্দ 

রাজউকের প্লট বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি আবাসন প্রকল্পে ১০ শতাংশ প্লট সংরক্ষিত থাকে। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার চাইলে কাউকে ওই সংরক্ষিত প্লট দেওয়ার সুপারিশ করতে পারে, যদি রাজধানীতে তার থাকার ব্যবস্থা না থাকে। রাজউক তখন তাদের প্লট বরাদ্দ দিয়ে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে।

জানা গেছে, ঝিলমিল আবাসনে সংরক্ষিত কোটায় থাকা প্লটের চেয়ে ৩২টি প্লট বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বরাদ্দের কারণে যারা প্লট পেয়েছেন, তারাও পড়েছেন বিপাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পে পাঁচ কাঠার প্লট আছে ৩৯৭টি এবং তিন কাঠার ১ হাজার ৭৩টি। এর মধ্যে পাঁচ কাঠার ৪০টি ও তিন কাঠার ১০১টি প্লট রাজউক বিধিমালার ১৩/এ ধারায় বরাদ্দের জন্য সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু রাজউক ৪০টির জায়গায় ৭০টি ও ১০১টির জায়গায় ১০৩টি প্লট বরাদ্দ দিয়ে ফেলেছে। ২০১৯ সালের জুনে এসব বরাদ্দের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর প্লট হস্তান্তরের বিষয়ে নিরীক্ষা শাখা থেকে আপত্তি দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা