প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৫ ১৩:১৬ পিএম
‘প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন’- বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপের অংশ হিসেবে ‘পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গ’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন- বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের সভাপতি এম হুমায়ূন কবির, বিআইপিএসএসের সভাপতি মেজর জেনারেল (অবসর) এ এন এম মুনীরুজ্জামান প্রমুখ।
নির্বাচন কবে হচ্ছে?- এমন প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা তাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে তিনি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। তাই আমাদের প্রত্যাশা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।’
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, ‘আমরা চিরস্থায়ী বহুমুখী সংকটে পড়েছি। আগের সরকার বেলেন্স করতে একবার ভারতের কোলে, একবার চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের কোলে।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক খেলা শুরু করেছে চীনের অর্থনীতিকে ডাউন দেওয়ার জন্য। আমাদের রপ্তানি বাজারের ৮.২ বিলিয়নের যুক্তরাষ্ট্রে। আমাদের কূটনৈতিকদের সরকার কাজে লাগাচ্ছে? কয়টা দূতাবাস অর্থনৈতিক কূটনীতি করছে। ২৬ শতাংশ কাঁচামাল চীন থেকে আসে। অথচ চীন থেকে এসব পণ্য আনতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধ করেছে।’
হিউম্যান করিডোর সম্পর্কে তিনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান হামলার সূচনা হয়েছিল করিডর দিয়ে।
আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জিল্লুর রহমান ৯টি বিষয় অবতারণা করেন।
এসবের মধো রয়েছে-
১. ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সামরিক এবং অর্থনৈতিক মৈত্রী গঠনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই অবস্থায় বাংলাদেশের 'সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়' নীতি কতোটা বাস্তবসম্মত?
২. দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বদলাচ্ছে, এই অবস্থায় বাংলাদেশ কীভাবে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে প্রধান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে?
৩. বাংলাদেশ কীভাবে তার কৌশলগত স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে?
৪. বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য ও পররাষ্ট্রনীতিকে শক্তিশালী করতে বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিসমূহ কী ভূমিকা পালন করতে পারে?
৫. রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুনভাবে সাজাতে পারে যা ফলপ্রসূ হবে আবার আঞ্চলিক শান্তিও বজায় থাকবে?
৬. মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ যে মানবিক করিডোর চালুর কথা ভাবছে, সেটা কি বাস্তবসম্মত? এতে কি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে?
৭. ভারতের সঙ্গে বড় অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর অন্যতম হচ্ছে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন। গঙ্গা নদী চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হচ্ছে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কীভাবে একটি ন্যায্য ও টেকসই পানি বণ্টন চুক্তির জন্য কূটনৈতিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে?
৮. বলা হয় ঢাকা দিল্লী সম্পর্ক এ যাবতকালের মধ্যে শীতলতম পর্যায়ে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো কী যথার্থ?
৯. ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা-ওয়াশিংটন, ঢাকা-বেইজিং এবং ঢাকা-দিল্লীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলো কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কী ধরনের কৌশলগত ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমরা ভারত, চীন, রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে না ঝুঁকে বরং নিজের স্বাতন্ত্র বজায় রেখে চলব।’
সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি মিশনে খুবই নাজুক ও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। গলঅভ্যুত্থান পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কোন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ভালো কূটনীতিককে আমরা কাজে লাগিয়েছি? আমরা বিভিন্ন দেশের বিরোধিতা না করে নিজেদের অর্থনৈতিক কূটনীতি কেন বাড়াচ্ছি না।’