সাম্য হত্যা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫ ১৪:৩৮ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৫ ১৫:৪৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য হত্যাকান্ড নিয়ে পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে অস্পষ্ট ও ব্যাখ্যাতীত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করে রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা৷
শনিবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় ‘সাম্য হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিষয়াবলী’ শীর্ষক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে ছাত্রদল।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ ঢাবি কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘সাম্য হত্যাকান্ডের তদন্তকার্যেও আমরা প্রচন্ড ধীরতা লক্ষ্য করেছি। প্রায় ১৩ দিন পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের নেতৃত্বে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয় তাও ছিলো অত্যন্ত অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। সেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী শহীদ সাম্যকে হত্যা করা হয় হত্যাকারীদের হাতে থাকা একটি ছোট্ট টেজার গানকে কেন্দ্র করে।’
তিনি বলেন, পরিচয় দেওয়ার পরেও একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সুপরিচিত ছাত্রদল নেতাকে এমন একটি তুচ্ছ বিষয়ে আক্রমণ করে অতি পেশাদার উপায়ে হত্যা করার পেছনে অন্য কোন ষড়যন্ত্র আছে নাকি নেই সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কোন তথ্য জানাতে ব্যর্থ হয়েছে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ।
সাহস আরও বলেন, সাম্য হত্যাকান্ডের মূল রহস্য এখনও উদ্ঘাটিত হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও রহস্য উদ্ঘাটনের অসত্য দাবি করে পুলিশ প্রশাসন উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অস্পষ্ট ও ব্যাখ্যাতীত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে জনগণকে এ বিষয়ে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করে রেখেছেন। ডিএমপির উক্ত সংবাদ সম্মেলনের অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তিকরভাবে তথ্য উপস্থাপনের বিষয়ে শহীদ সাম্যর পরিবারও তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্য আরো বলা হয়, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের উপযুক্ত ক্যাম্পাসের আকাঙ্খা বারেবারে প্রকাশ করে এসেছে, সেরকম ক্যাম্পাস বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং ন্যাক্কারজনক নানা ঘটনা ঘটে যাবার পরেও তাদের গা-ছাড়া মনোভাবের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাবিধানে তাদের অযোগ্যতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
অপরদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে দায়িত্বশীল উপাচার্য এবং প্রক্টর অবিলম্বে পদত্যাগ করে যোগ্যতা সম্পূর্ণ ব্যক্তিদের এ গুরুদায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া এবং নতুন প্রশাসনের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়।