প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৬ পিএম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৫০ পিএম
প্রতীকী ছবি
রাজধানীতে একই দিনে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন। নিহতরা হলেনÑ ফারাহ দীবা, আমেনা আক্তার ও সোহেল রানা। গত রবিবার দুপুর থেকে রাতের মধ্যে রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা ও দক্ষিণখানে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ফারাহ দীবার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফারাহর স্বামী কাজী আব্দুল মতিন বিমানবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার। সোমবার ডিএমপির মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার পহন চাকমা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে রবিবার সকালে বাসার তত্ত্বাবধায়ক ও গাড়িচালক ওই নারীকে হত্যার পর কিছু মালামাল লুট করে পালিয়েছেন। ঘটনার সময় বাসাতে ওই নারী ছাড়া কেউ ছিলেন না। ওই নারীর স্বামী, ছেলে ও মেয়ে চাকরিজীবী। তারা বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। ওই নারীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এ ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে রবিবার রাতে দক্ষিণখানের মৌশাইর মাল্টি গার্মেন্টসের সামনে
সোহেল রানা নামের এক ডিশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সোহেল রানা
দক্ষিণখানের আর্মি সোসাইটিতে থাকতেন। তার বাবার নাম মো. দুলাল।
স্থানীয়রা জানান, মাল্টি গার্মেন্টসের সামনে রাত ৮টার দিকে কয়েকজন
দুর্বৃত্ত এসে সোহেলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরার
কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের
কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, সোহেলের বাম হাতে একাধিক গুরুতর জখমসহ শরীরের বিভিন্ন
জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে অবস্থা
আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে
মৃত ঘোষণা করেন।
দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, নিহত সোহেল
ডিশ ব্যবসায়ী ছিলেন। ডিশ ও ময়লার বাণিজ্য এবং এলাকায় আধিপত্যের জেরে সোহেলকে চাপাতি
দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত দুজন পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায়
মামলা প্রক্রিয়াধীন।
অপরদিকে গতকাল দুপুরে বাড্ডা থানার পূর্বাঞ্চল এলাকার একটি ফার্নিচার
কারখানা থেকে আমেনা আক্তার নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের
জন্য মরদেহ ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী মিন্টু পলাতক।
বাড্ডা থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রবিবার রাত ৮টার থেকে সাড়ে
১০টার মধ্যে যেকোনো সময় তার স্বামী মিন্টু ফার্নিচার কারখানার ভেতর নিয়ে তাকে গলা
কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সে ওই ফার্নিচার কারখানায় কাজ করত। তাকে গ্রেপ্তার করতে
পারলে ঘটনার রহস্য জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে
এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমেনা আক্তার দুই সন্তানের জননী ছিলেন। তার বাড়ি ভোলা জেলার
সদর থানা এলাকায়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই সেলিম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশের সূত্র জানায়, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পর বিশ্লেষণ
করে নিহত নারীকে কারখানার ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ভেতরে যাওয়ার
পর হয়তো দুজনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আমেনার গলা কেটে তাকে হত্যা করেন স্বামী।