প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৩১ এএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:০১ এএম
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে ‘সিগারেটে কার্যকর করারোপ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা। প্রবা ফটো
সিগারেটের দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে তার ওপর কার্যকর হারে করারোপই এই ক্ষতিকারক পণ্যের ব্যবহার কমিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে প্রমাণিত। তবে বাংলাদেশে সিগারেটে কার্যকর করারোপ না হওয়ায় এখনও দেশের ১৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সি নাগরিকদের মধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি ধূমপান করছেন। দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিগারেটে করারোপের গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর করারোপের সূবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে ‘সিগারেটে কার্যকর করারোপ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত সেমিনারে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. এস. এম. জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল, একই বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. সুজানা করিম এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম। সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন তামাক-বিরোধী নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং গবেষকবৃন্দ। সেমিনারের প্রেক্ষাপট পত্র উপস্থাপন করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের হেড অফ প্রোগ্রামস শাহীন উল আলম।
অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায়ের জন্য তামাক কোম্পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়াও তিনি সিগারেটের খুচরা মূল্যের ওপর শতাংশ হিসেবে করারোপের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের কর আয় বৃদ্ধি ও সিগারেট কোম্পানির কর ফাঁকির সুযাগ কমবে বলে মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্বের ৪৫টি কম বাজেটের রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আমাদের টেক্স রেভিনিউ অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। রেভিনিউ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক অর্থনীতির আলোকেও চিন্তা করে দেখতে হবে।
কররোট টেক্স সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে ৪৫ শতাংশ কররোট টেক্স আছে এটি বাড়াতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে সার্চ চার্জ বাড়াতে হবে। কেননা আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তামাকপান শূন্যে নামিয়ে নিয়ে আসা। জর্দা, গুলকেও আলোচনায় নিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আগামী বাজেটে কর বাড়ানোর জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।
প্রেক্ষাপট পত্র উপস্থাপনকালে আব্দুল্লাহ নাদভী বলেন, সিগারেটে কার্যকর করারোপ নিশ্চিত না করায় একদিকে নাগরিকদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রতি বছর গড়ে ৬ হাজার ৬ শত কোটি টাকার মতো রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় সস্তায় সিগারেট পাওয়া যায় উল্লেখ করে ড. শিমুল বলেন, সিগারেটের ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনার সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী পদ্ধতি হলো এই ক্ষতিকারক পণ্যগুলোর দাম বেশি করে বাড়িয়ে তার ওপর কার্যকর হারে করারোপ। কিশোর-তরুণদের মধ্যে ধূমপান শুরু করা ঠেকানোর জন্য জাতীয় বাজেটে সিগারেটের দাম বেশি করে বাড়ানো একান্ত জরুরি বলে মত দেন ড. নাজমুল। ড. সুজানা করিম বলেন, তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে সিগারেটে কার্যকর করারোপের প্রয়োজনীয়তা জনপরিসরে তুলে ধরার পরও এক্ষেত্রে অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে।
ড. এস. এম. জুলফিকার আলী সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোতে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির তুলনায় সিগারেটের দাম যথেষ্ট না বাড়ানোর সমালোচনা করেন। বলেন, বিদেশি অনেক বন্ধু দেশ থেকে উপহার হিসেবে সিগারেট নিতে বলে। বর্তমান সরকারের পিছু ডাক নেই। তাই এখনই যথাযথ কাজ করার সময়। কেননা রাজনৈতিক সরকার নানা ধরনের তদবিরের কারণে অনেক কাজ করতে পারে না।