প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ২১:৪৫ পিএম
সাদিক অ্যাগ্রো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিল ডিএনসিসি। প্রবা ফটো
টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আলচিত সাদিক অ্যাগ্রোর পুরো খামার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় সাতমসজিদ হাউজিংয়ে অবস্থিত খামারটি ভেঙে দেওয়ার কার্যক্রম শনিবার (২৯ জুন) শেষ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাতমসজিদ হাউজিংয়ের এক নম্বর সড়কের শেষ প্রান্তে খামারটি ছিল একেবারে রামচন্দ্রপুর খালের পাড় ঘেঁষে। অথচ খালের প্লাবন ভূমির (ফোরশোর) ৩০ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করতে উচ্চ আদালতের আদেশ রয়েছে। এ ছাড়া খামারের স্থাপনা নির্মাণের জন্য সাদিক অ্যাগ্রো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কোনো অনুমতি নেইনি। সিটি করপোরেশন থেকেও নেওয়া হয়নি ট্রেড লাইসেন্স।
ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বির আহমেদ জানান, গত বৃহস্পতিবার তারা প্রথম অভিযান পরিচালনা করেন। ওই দিন খামারের আংশিক ভেঙে দিয়ে তাদের ট্রেড লাইসেন্স, ফার্মের স্থাপনা নির্মাণের অনুমতিপত্র চাওয়া হয়েছিল। খামার কর্তৃপক্ষ এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ প্রেক্ষিতে খামার কর্তৃপক্ষ নিজেরাই ভেঙে দেবে বলে দুই দিন সময় নিয়েছিল।
মোতাকাব্বির বলেন, শনিবার গিয়ে দেখা যায়, তারা খামার ভাঙেনি। তাই বাকি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকায় কোনো খামার করার সুযোগ নেই।
ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অভিযান শুরুর কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে বিলম্বিত হয়। বেলা ১২টায় শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। তৃতীয় দিনের অভিযানে সাদিক অ্যাগ্রোর খামারটি ছাড়াও আরও ৯টি অবৈধ পাকা স্থাপনা, একটি হাউজিংয়ের ফটক ও আশপাশের কিছু ছোট স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
শুক্রবার থেকে উদ্ধারকৃত রামচন্দ্রপুর খালের জায়গা পুনরায় দখল হওয়া ঠেকাতে খনন করা শুরু হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত গত দুই দিনে খাল থেকে ১০ টন বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়েছে। আর তিন দিনের অভিযানে ৭০টির বেশি স্থাপনা ভেঙে প্রায় ২০ বিঘা জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারের চালানো অভিযানে খামারটির অবৈধ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে নবীনগর হাউজিংয়ে সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩৩ শতক (এক বিঘা) জমি দখল করে গড়ে তোলা সাদিক অ্যাগ্রোর খামারের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছিল।