অর্থনীতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪ ১৬:৩০ পিএম
বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা। গ্রাফিক্স : প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গত এপ্রিল মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ৩৫ বেসিস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ২২; যা গত মার্চে ছিল ৯ দশমিক ৮৭। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে সার্বিক ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে। সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে ৭ বেসিস কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৪ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৩০ বেসিস কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৪।
সোমবার (১৩ মে) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে আসে।
বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে জাতীয় পর্যায়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৪, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ৮১ এবং ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৬৭। গ্রামে এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯২, শহরে ছিল ৯ দশমিক ৪৬। অর্থাৎ গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল।
খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ২২, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ৮৭ এবং ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৪৪। অর্থাৎ তিন মাস যাবৎ খাদ্যে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। আবার গ্রামে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ২৫ এবং শহরে ছিল ১০ দশমিক ১৯। মার্চে গ্রামে ছিল ৯ দশমিক ৮৬ এবং শহরে ছিল ৯ দশমিক ৯৮।
খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে জাতীয় পর্যায়ে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৪; যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ৬৪ এবং ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৩৩। গ্রামে এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৬০ এবং শহরে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ১। মার্চে গ্রামে ছিল ৯ দশমিক ৪১ এবং শহরে ছিল ৯ দশমিক ৭১। ফেব্রুয়ারিতে গ্রামে ছিল ৯ দশমিক ১০ এবং শহরে ৯ দশমিক ৩৮।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেইন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, মানুষের আয় বাড়েনি অথচ ব্যয় অনেক বেড়েছে। খাদ্যপণ্য, সেবাসহ সব খাতেই মানুষের ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস, ডাল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। যদিও চালের দাম বাড়েনি, কিন্তু গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সেবাপণ্যের দাম ঠিকই বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণে মানুষ আয় ও ব্যয়ের মধ্যে কোনোভাবেই সমন্বয় করতে পারছে না। এজন্য সরকারি কিছু পদক্ষেপ থাকে, কিন্তু আমাদের দেশে তা সেভাবে বাস্তবায়ন হয় না। যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে কিছু ব্যবস্থা এমন হওয়া দরকারÑ যাতে দাম বাড়লেই সহজে অনেকেই আমদানি করতে পারে। তাদের জন্য ট্যাক্সসহ অন্যান্য বিষয়ে ছাড় বা অর্থ দিয়ে খালাসের ব্যবস্থা থাকতে পারে। এ ছাড়া আমদানির যে ব্যয় আছে সেটা কীভাবে কমানো সম্ভব তা নিয়েও চিন্তা করা দরকার। কেননা আমদানি ব্যয়ে যে অর্থ বাড়বে তা ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছ থেকেই আদায় করবে। এজন্য আমদানি ব্যয় কমাতে হবে। তবে আমাদের কাছে মনে হয়, বিবিএস যে তথ্য দিয়েছে প্রকৃত চিত্র তা থেকেও বেশি।
যদি কৃষি খাতে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা না বাড়ে, তাহলে শুধু সরকারি মনিটরিং পলিসি দিয়ে বাজারব্যবস্থা ঠিক রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করা প্রয়োজন। শহরের থেকে গ্রামের মানুষ বেশি বিদেশে থাকে। তাদের হাতে অর্থ বেশি থাকায় ব্যয়ও বেশি করে, সেজন্য গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার বেশি হয়।