প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ২২:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নিয়মবহির্ভূত উপায়ে ঋণপ্রদান ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহজাহান ভূঁইয়ার নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় তার বিরুদ্ধে ১০৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্যাংকটির এমডি ছাড়াও মামলার অপর আসামি হলেন ঋণগ্রহীতা মেসার্স দত্ত ট্রেডার্সের প্রোপাইটর সমীর প্রসাদ দত্ত।
সোমবার (১৩ মে) কমিশনের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় বগুড়ায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মেসার্স দত্ত ট্রেডার্সের অনুকূলে ইউসিবিএল বগুড়া থেকে কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ৪৭ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান ভূঁইয়া।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মেসার্স দত্ত ট্রেডার্সের প্রোপাইটর সমীর প্রসাদ দত্ত টেকওভার ঋণের জন্য যেদিন আবেদন করেছেন, সেদিনই কল রিপোর্ট ও লোন প্রোপোজাল প্রস্তুত করে শাখা থেকে হেড অফিসে প্রেরণ করে মাত্র সাত দিনের মধ্যে কোনো রেকর্ডপত্র যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করে মাত্র ৯ কোটি ৫২ কোটি টাকার সমপরিমাণ সহায়ক জামানত গ্রহণ করে ৪৯ কোটি টাকা টেকওভার ঋণপ্রদানের অনুমোদন মঞ্জুর করে তা সরবরাহ করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঋণপ্রদানের পরবর্তী তিন মাস ব্যবধানে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ১৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ সহায়ক জামানত রেখে পুনরায় ৪৯ কোটি টাকা থেকে ৫৮ কোটি টাকা ঋণসীমা বৃদ্ধি করে ঋণ সরবরাহ করেন এবং ঋণগ্রহণের ছয় মাস না যেতেই ঋণগ্রহীতা ঋণপ্রদানে ব্যর্থ হলে ইউসিবিএল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একক ক্ষমতায় কয়েকবার ঋণের সুদ মওকুফের অবৈধ সুবিধা প্রদান করা হয়।
পরে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার ইউসিবিএল শাখা অডিট করার সময় মেসার্স দত্ত ট্রেডার্সের ঋণখেলাপিটি অডিট টিমের নজরে এলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামি শাহজাহান ভূঁইয়া কোনো বিধি-বিধান না মেনে অবৈধভাবে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে ঋণটি মাত্র দুই বছরের মধ্যে কনভার্সন করে দেন।
ঋণগ্রহীতা ঋণপ্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পরে তাকে ইউসিবিএল থেকে কয়েকবার ঋণের সুদ মওকুফের অবৈধ সুবিধা প্রদান করে তারা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যাংকের মূল ৪৭ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা এবং সুদ ৬১ কোটি ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪ টাকাসহ সুদ-আসলে মোট ১০৯ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার ৪০৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।