প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ২১:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি
নগদ ডলারের সংকট থাকায় বিদেশ ভ্রমণে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার কিছুটা বেড়েছে। আগের মাসের চেয়ে মার্চে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মাধ্যমে অন্যান্য দেশেরে চেয়ে বেশি ডলার বাংলাদেশে এসেছে। ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্য বলেছে, ফ্রেবুয়ারির তুলনায় মার্চে খরচ বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছে ৫০৩ কোটি টাকা। যেটা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মার্চে বেড়েছে ৪ কোটি টাকা। এরমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে খরচ করেছিলেন ১০৮ কোটি টাকা, মার্চে খরচ করেছেন ১০৬ কোটি। সে হিসেবে ২ কোটি টাকা কম খরচ করেছেন বাংলাদেশিরা। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা ৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করেন। যেখানে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে খরচ করেছিলেন ১১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়াতি কিছুটা বাড়লেও মার্চে আবারও খরচ কমিয়েছেন বাংলাদেশিরা।
তবে মার্চে খরচ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশিরা প্রবাসে গিয়ে ফেব্রুয়ারিতে খরচ করেছিলেন ৬০ কোটি টাকা, মার্চে খরচ করেছেন ৬৩ কোটি। খরচ বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি। এই দুই দেশের পর বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের বেশি ব্যবহার করেছেন ইউএইতে ৪৯ কোটি। এছাড়া, থাইল্যান্ডে ৩৪ কোটি, যুক্তরাজ্যে ৩১ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩৩ কোটি, কানাডায় ২৫ কোটি, সৌদিতে ৩৫ কোটি, মালয়েশিয়ায় ১৯ কোটি, আয়ারল্যান্ডে ১৪ কোটি, অস্ট্রলিয়ায় ১২ কোটি ও অন্যান্য দেশে ৬১ কোটি টাকা। বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিরা যেসব খরচ করেছেন এরমধ্যে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে খরচ হয়েছে ১২১ কোটি, খুচরা দোকানে ৭৭ কোটি, নগদ উত্তোলন ৬০ কোটি, ফার্মেসিতে ৬৮ কোটি, কাপড় কেনায় ৪২ কোটি, পরিবহনে ৩৬ কোটি, ব্যবসায় সেবা বাবদ ৩৭ কোটি, সরকারি সেবায় ২২ কোটি, প্রফেশনাল সার্ভিস ২৩ কোটি ও ইউটিলিটি বাবদ ১১ কোটি টাকা।
এদিকে চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের ভেতর ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। আর মার্চ মাসে হয়েছে ২ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে মার্চে বেড়েছে ৪২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩৮১ কোটি, খুচরা দোকানে ৩৯১ কোটি, ইউটিলিটি বাবদ ২৫১ কোটি, নগদ উত্তোলন ২০৩ কোটি, ফার্মেসিতে ১৪০ কোটি, কাপড় কেনায় ৩৪৪ কোটি, পরিবহনে ৯৮ কোটি, ফান্ড স্থানান্তর ৯৬ কোটি, বিজনেস সার্ভিস ৫২ কোটি, প্রফেশনাল সার্ভিস ১৯ কোটি ও সরকারি সেবায় ৯ কোটি টাকা। এছাড়া, দেশের ভেতর গত জানুয়ারিতে ভিসা কার্ডের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, মাস্টার কার্ডের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৫২৩ কোটি টাকা, অ্যামেক্সের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৩৩২ কোটি টাকা, ডিনার্সের মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা, কিউক্যাশ প্রোপ্রাইটরের মধ্যে খরচ হয়েছে ১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে গত মার্চ মাসে বাংলাদেশে বিদেশিদের খরচ কমেছে ৫.৫৯ শতাংশ। দেশে অবস্থানরত বিদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছে ২২৬ কোটি টাকা। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে যেটা ছিল ২৪০ কোটি টাকা। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে মার্কিন নাগরিকরা খরচ করেছে ৫৬ কোটি টাকা, যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা খরচ করেছে ২৬ কোটি, ভারতের নাগরিকরা খরচ করেছে ২৩ কোটি, অস্ট্রলিয়ানরা খরচ করেছে ৬ কোটি, কানাডার নাগরিকরা খরচ করেছে ৮ কোটি, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা খরচ করেছে ৮ কোটি, জাপানিরা খরচ করেছে ৮ কোটি, ইউএই’র নাগরিকরা খরচ করেছে ৭ কোটি, চীনারা খরচ করেছে ৭ কোটি, দক্ষিণ কোরিয়ানরা খরচ করেছে ৪ কোটি, সৌদি নাগরিকরা খরচ করেছে ৩ কোটি, ইটালির নাগরিকরা খরচ করেছে ৩ কোটি । অন্যান্য দেশের নাগরিকরা খরচ করেছে ৫৩ কোটি টাকা।