সাভার (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৪ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৪ ১৫:২১ পিএম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোরবানির ঈদ পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের সহনশীল অনুমতি দেওয়া হবে।
বুধবার (৬ মার্চ) বিকালে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প নগরীর সম্মেলন কক্ষে কারখানা মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই চামড়া শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে। তবে সেটা আমরা বাস্তবে দেখতে পাইনি। মানুষের ক্ষতি, জনসংস্থান বা পরিবেশের ক্ষতি হবে- এমন কোনো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হবে না।’
‘খুব দ্রুত এক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হবে, সেটা আমরা আরও আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসব। চামড়া শিল্প নগরীর জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে সীমিত ও সহনশীল অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে সেটা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত,’ যোগ করেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে কারখানার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
চাইনিজ প্রতিষ্ঠান সিইপিটি নির্মাণের ক্ষেত্রে কন্টাক্ট অনুসারে নির্মাণ করেনি জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সমস্যাটা বোঝার জন্য আমরা সরেজমিনে এসেছিলাম। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সিইটিপিটা চাইনিজরা করেছিলেন। আমরা যে কন্টাক্ট তাদের দিয়েছিলাম তারা সেই কন্টাক্ট অনুসারে সিইপিটিটা নির্মাণ করেনি। তারা কন্টাক্ট অনুসারে কাজ না করার কারণে তাদের আমরা টাকা পেমেন্ট করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সমস্যা হয়ে গিয়েছে যে কন্টাক্ট অনুযায়ী যে কাজ করার কথা ছিল যেহেতু তারা করেনি, তাই সিইপিটির যে পারফম্যান্সটা হওয়ার কথা ছিল তা হচ্ছে না। এর মধ্যে সিইপিটি যেহেতু নির্মাণ হয়ে গেছে, তা ফেলেও দেওয়া যায় না। আজ আমরা সবার কাছ থেকে শুনেছি ও আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এই সিইপিটির সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় ও কোরবানির আগে এই সিইপিটি দিয়ে কী কী করতে পারি এবং কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, কোম্পানির এমডি কয়েকটা প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন যদি করা যায়, তবে কোরবানির সময় যে সমস্যাটা হবে, তা কিছুটা কমবে।’
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘চামড়া শিল্প নগরী নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসব। সবার সঙ্গে বসেই সমস্যার সমাধান করা হবে। আপনারা জানেন, কোরবানি চলে আসছে। কোরবানির আগে এসব সমস্যার সমাধান করা খুব বেশি সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত কারখানা মালিকদের সার্টিফাই করব, সেখানে মাননীয় পরিবেশমন্ত্রী এখন রাজি হয়েছেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব খরচে ইটিপি প্ল্যান্ট করতে চায়, সেক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করা হবে, যা আগে করা যেত না।’
এর আগে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই চামড়া শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। আমরা এখানে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের জন্য বসিনি। আমরা সরেজমিনে দেখার জন্য এসেছি। কী করা যায় সেটার সমস্যার সমাধানের জন্য।’