প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৬:০১ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপ জুড়ে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। সরবারহ কমে যাওয়া বেড়ে গ্যাসের দাম। ফলে কম গ্যাস ব্যবহারে ঝুঁকছে শিল্প কারখানাগুলো। পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে না থাকায় একবারে বন্ধও হয়ে যাচ্ছে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের শিল্প বাজার ক্রমেই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচ এবং সরবারহ সুবিধা ভাল থাকায় ভবিষ্যতে বাজার দখল করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।
২০২০ সালের পর এবারই প্রথম ইউরোপের শিল্প উৎপাদন সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। গত এক বছরে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন কমেছে ১০ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। ইউরোপ যে ৯টি ব্লক থেক জিঙ্ক সালফেট উৎপাদন করতো তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে এখন চাহিদা পূরণের জন্য তাদেরকে চীন, কাজাখস্তান, তুরস্ক এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি এক পূর্বাভাসে বলছে, ইউরোপীয় অঞ্চলের শিল্পে গ্যাসের চাহিদা গত বছরের তুলনায় এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে ২৫ শতাংশ কমেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে জীবনধারণ ব্যয় মিটিয়ে উচ্চ জ্বালানী খরচ জনগণের কাঁধে বোঝার মতো চেপেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের খরচ মিটিয়ে উৎপাদন ধরে রাখতে পারছে না। ফলে গ্যাস সঞ্চয়ের সুফল কাজে আসছে না। তবে ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘শিল্প উৎপাদন হ্রাস রোধে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’
আসন্ন শীতে গ্যাস সংকট তীব্র হবে বলে সর্তক করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, আসন্ন শীত মৌসুমে ইউরোপে বসবাসরত পরিবারগুলোর গ্যাসের চাহিদা বাড়বে। ফলে গ্যাস সংকট আরও প্রকট হবে। চাহিদার তুলনায় শিল্প প্রতিষ্ঠান আরও কম সরবারহ পাবে। ফলে প্রথমেই জ¦ালানি খাত হুমকির মুখে পড়বে। এমনকি যেসব প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে গেছে তার অনেকগুলোই আর কখনো খুলবে না।
এদিকে কয়েক দশক ধরে ইউরোপীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সস্তা শ্রম এবং অন্যান্য কম খরচের বাজারের দিকে ঝুঁকছে। ফলে অত্যাধিক জ্বলানির দাম তাদের এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ক্রাল বলেন, জ্বালানির দাম যদি এভাবে বাড়তেই থাকে তবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে পারবে না। ফলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে, নয়তো তারা জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবে। এখনো যুক্তরাষ্ট্রে যেহেতু গ্যাসের দাম ইউরোপের তুলনায় এক পঞ্চমাংশ কম তাই অ্যালুমিনিয়াম, সার এবং রাসায়নিক উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেদিকেই ঝুঁকবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
সাময়িক বন্ধ কারখানাগুলো ভবিষ্যতে খোলার সম্ভবনা একেবারেই কম বলে মনে করছে শিল্প সমিতি ইউরোমেটাক্সের অন্যতম মুখপাত্র ক্রিস হেরন। তিনি বলেন, ‘একটি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট উৎপাদনকারী কারখানা পুনরায় চালু করতে ৪০ কোটি ইউরো পর্যন্ত খরচ হয়। ইউরোপের অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যা প্রায় অসম্ভব। ফলে সাময়িক বন্ধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে।’
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ব্রিটেনের অভ্যন্তরে গ্যাসের দাম এক বছরে তিনগুণ হয়েছে। গ্যাস সংকটে ভুগছে জার্মানি, হাঙ্গেরিসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশ। আসন্ন শীতে তাই ইউরোপকে ‘জমিয়ে দিতে’ পুতিনের সামনে আর কোন বাধা নেই। নর্ড স্ট্রিম ১-এর মতো বড় বড় পাইপলাইন থেকে ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। এদিকে ইউরোপে গ্যাস না দিয়ে এশিয়ায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করেছে রাশিয়া। ফলে মস্কোর ব্যালেন্স অব পেমেন্টে নজিরবিহীন উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রাগুলোর তালিকাতেও ঢুকে গেছে রুবল।
ইতিমধ্যেই রাশিয়া বিশে^র বেশিরভাগ দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় আগামী শীত মৌসুম নিয়ে চরম আতঙ্কে তারা। আগামী বছরের শুরুতে ইউরোপ সমালোচনামূলক কাঁচামাল আইন প্রস্তাব করবে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, প্রস্তাবিত আইনে তারা লিথিয়াম, বক্সাইট, নিকেলের মতো অপরিহার্য খনিজের মজুদ গড়ে তোলার পক্ষে মতামত দেবে।
প্রবা/এসজি