প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৪:৪৫ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:২৬ পিএম
‘বছর শুরুর ভাবনা : বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পথে’ শীর্ষক পাবলিক লেকচারে অতিথিরা। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে উন্নয়ন সমন্বয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘সমাজ শান্তি ও স্থিতিশীল না থাকলে বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের জন্য সমাজকে স্থিতিশীল রাখতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ‘বছর শুরুর ভাবনা: বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পথে’ শীর্ষক এক পাবলিক লেকচারে তিনি এ কথা বলেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে উন্নয়ন সমন্বয়। এতে তিনি মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা অতি বিপ্লবী ও অতি আশাবাদীও নই। আমাদের ভেবে চিন্তে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘৫০ বছর আগে শিল্প খাতে জিডিপির অংশ ছিল ১০ শতাংশ। বর্তমান তা ৫০ শতাংশ। গার্মেন্টসের সঙ্গে চামড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টর থেকেও পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।’
দারিদ্র্যের হার নিয়ে বলেন, ‘১৯৭৩ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৮০ শতাংশ। এটি ২০২২ সালে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। দরিদ্র কমে আসার কারণে জীবনের গড় আয়ু বাড়ছে। বর্তমানে আমরা গড়ে ৭৩ বছর বেঁচে থাকছি। এ হার ২০০৫ সালে ছিল ৬৫ বছর ও ১৯৭২ সালে ছিল ৪৭ বছর। আগে ১ হাজার শিশুর মধ্যে ২২ জন মারা যেত। এই হারও কমেছে।’
কৃষিতে অভাবনীয় বিপ্লব ঘটে গেছে উল্লেখ করে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের উৎপাদন বাড়ছে। নিজেরা খাওয়ার পর তা রপ্তানি করছি। বিশ্বে ১৮টি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ ১০টিতে শীর্ষে আছে। কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশের প্রথম বাজেটে ২৪ শতাংশ অর্থ দিয়েছিলেন। বর্তমানে কৃষিতে চাষবাস হচ্ছে যন্ত্রপাতি দিয়ে। দেশের বিজ্ঞানীরা ১০৯টি জলবায়ু সহিষ্ণু বীজ উৎপাদন করেছে। ফলে সমুদ্র উপকূলেও গম, ডালসহ নানা ধরনের কৃষি ফসল চাষাবাদ হচ্ছে।’
ভিক্ষুকদের ব্যাংকিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণকে বড় ধরনের বিপ্লব আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘দেশে ব্যাংকিংসেবা সহজ হওয়ায় ভিক্ষুকরাও ব্যাংকিং কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এটি বড় ধরনের বিপ্লব। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী সবাই ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।’
গার্মেন্টস শিল্পে গ্রিন ফাইন্যান্স চালু করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে করে এ খাতে বিপ্লব ঘটে গেছে বাংলাদেশে। বিশ্বের ১০০টি গ্রিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টিই বাংলাদেশে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রেমিট্যান্সে ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বলেন, ‘প্রবাসী আয় আনা ব্যাংকগুলো কেন এসব প্রবাসীদের দেশে এলে কীভাবে গ্রামে যাবে তার সুযোগ করে দিচ্ছে না? প্রবাসীদের আয়ের ওপর আড়াই শতাংশের জায়গায় ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া দরকার। তাতে করে হুন্ডিতে অর্থ প্রেরণ কমে যাবে।’
কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্পর্কে ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি ও ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমন্বয় হতে হবে। কেননা আমরা প্রচুর গ্র্যাজুয়েট বের করলেও তারা চাকরি পাচ্ছে না। অথচ টেক্সটাইল ও হসপিটালিটি সেক্টরে পাস করার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে।’