প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২২ ২৩:১৯ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ১৪:৫১ পিএম
মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত গুণিজন সংবর্ধনায় আমন্ত্রিত অতিথিরা। ছবি : প্রবা
গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন চিন্তায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ও ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. রওনক জাহান এবং প্রয়াত অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খানকে (মরণোত্তর) সংবর্ধনা দিয়েছে বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএস। এ দুই গুণিজনের জীবন ও কর্মের প্রতি সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে ‘গুণিজন সংবর্ধনা ২০২২’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ড. রওনক জাহানের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন আর আকবর আলি খানের পরিবারের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
সংবর্ধিত হয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে ড. রওনক জাহান বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এ আয়োজনের জন্য। আমি অভিভূত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য যা আমার অপ্রত্যাশিত ছিল। সংবর্ধনা পেতে কার না ভালো লাগে, তবে শিক্ষক হিসেবে আমি বেশিরভাগ সময় সাদামাটা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়েছি, এরকম জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এসে আমি সত্যিই অভিভূত।’
তিনি বলেন, ‘বাবার চাকরিসূত্রে আমি দেশের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়াম সরকারি স্কুলে পড়েছি। আমার বাবাই আমার প্রধান শিক্ষক যিনি চাইতেন তার ছেলে ও মেয়ে সমানভাবে বেড়ে উঠবে, তার মেয়ে হবে সোনার মেয়ে। আমার শিক্ষাজীবনের চমৎকার সময় কেটেছে হার্ভার্ডে যেখানে আমি শিখেছি স্কাই ইজ মাই লিমিট।’
প্রয়াত আকবর আলি খানের পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তার ভাতিজি রুবিনা খান। তিনি আকবর আলি খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘গুণিজনদের সংবর্ধনা জানাতে আসতে পেরে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে রওনক জাহানের সঙ্গে আমার অনেক গল্প রয়েছে। আকবর আলি ভাইয়ের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। যখন তিনি ইকোনমিক মিনিস্টার (ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসে) ছিলেন তখন আমাদের ভালো কিছু স্মৃতি রয়েছে। তখনও বাংলাদেশে বন্যা হয়। ১৯৮৯ সালে আমরা একটি সম্মেলন করি পানি নিয়ে। তখন আকবর আলি ভাই আমাকে উপদেশ দিলেন যে, ভারতের পাশাপাশি নেপালকেও নিয়ে আসো। সবাইকে নিয়ে আয়োজন করার পরামর্শ দিলেন এবং এটি ছিল খুবই দারুণ একটি আইডিয়া; যার ফলে সংস্থাগুলো আমাদের অনেক বরাদ্দ দেয়। যারা গুণিজনদের সংবর্ধনা দিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন। তিনি বলেন, ‘জ্ঞানমনস্ক সমাজ ছাড়া বাংলাদেশ কোনোভাবেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে না। জ্ঞানমনস্ক সমাজের জন্য শুধু জ্ঞানমনস্ক হলেই হবে না, জ্ঞানমনস্কতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে। আজকের এ আয়োজনের জন্য বণিক বার্তার সম্পাদক ও এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আমার কৃতজ্ঞতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু অর্থনীতি নয়, অর্থনীতির বাইরেও যারা তাদের কাজের মাধ্যমে আমাদের দেশে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তাদের শ্রদ্ধা জানানো আমাদের কর্তব্য ও নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আজ যে দুজনকে আমরা সম্মাননা জানাচ্ছি তাদের একজন আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় অনুষ্ঠানের সব খোঁজ নিয়েছেন।’
সূচনা বক্তব্যের পর সংবর্ধিত দুই গুণিজনের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া প্রয়াত ড. আকবর আলি খান স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সংবর্ধিত দুই গুণিজনের জীবন ও কর্মের নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করে ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যে দুজন সংবর্ধনা পেলেন, সৌভাগ্যক্রমে দুজনই আমার বেশ সুপরিচিত। রওনক জাহান নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম সারির একজন ব্যক্তি। আমরা একই স্কুলে পড়েছি। আজকের এই দিনে তাকে শুভেচ্ছা। আর ছোটবেলা থেকেই ড. আকবর আলি খান মেধাবী ছিলেন। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। অদম্য একজন মানুষ ছিলেন। হুইল চেয়ারে বসে তিন ঘণ্টা টানা কাজ করতে পারতেন।’
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘রওনক জাহানকে নিয়ে কিছু বলার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি আমি নই। আজকের এ অনুষ্ঠানে ড. আকবর আলি খানকে নিয়েও আমাকে স্মৃতিচারণা করতে হবে। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। আমি আশা করি তিনি আজ আমাদের সঙ্গেই আছেন এবং আমার এ বক্তব্য শুনছেন। ড. আকবর আলি খান একজন পণ্ডিত, একজন দক্ষ আমলা। আজকের এ অনুষ্ঠানে তার মতো একজন সম্মানিত এবং ভালো মানুষকে গুণিজন হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। রওনক জাহানও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন অবদান রেখেছেন। তিনি যেসব ক্ষেত্রে কাজ করেছেন, সবগুলোতেই একজন পথিকৃৎ হিসেবে অবদান রেখেছেন। রওনক জাহান প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করার সময়ও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন। নারী ক্ষমতায়নেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন। রওনক শুধু একজন গবেষকই নন, তিনি আদর্শ পেশাজীবী, দক্ষ সংগঠক।’
প্রবা/এসজি/জেও