× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঋণের ৪২ শতাংশই ক্ষুদ্র খাতে বিতরণ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:৫৯ পিএম

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান। প্রবা ফটো

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান। প্রবা ফটো

২০২২-২৩ অর্থবছরে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা, তা বিতরণকৃত ঋণের ৪২ শতাংশ। আর কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ খাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণ করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৫০ শতাংশ। গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছে মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ২০২২-২৩ অর্থবছরে অথরিটির সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতের বিভিন্ন অর্জনের ওপর তাদের স্ব-স্ব মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ খাতের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

তারা বলেন, আর্থিক অন্যান্য খাতের তুলনায় এ খাতে আদায়ের হার ৯৮ শতাংশ এবং নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৯১ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে এ খাত অনন্য ভূমিকা পালন করছে।

এমআরএ জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিতরণকৃত মোট ঋণ ২৪৯ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১০৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কৃষি খাতে ও ক্ষুদ্রঋণ খাতের অবদান অনস্বীকার্য, যা এ বছরে ১২৪ হাজার কোটি টাকা (বিতরণকৃত ঋণের ৫০ শতাংশ) ঋণ বিতরণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো সারা দেশে আর্থিক সেবা প্রদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা বৃত্তি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে চলেছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এমআরএর সনদপ্রাপ্ত ৭৩১টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান তাদের ২৫ হাজার শাখার মাধ্যমে দেশের প্রায় চার কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক সেবা প্রদান করছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর/পরিদপ্তর, গ্রামীণ ব্যাংক এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে থাকে। 

২০২২-২৩ অর্থবছরে ক্ষুদ্রঋণ সেক্টর গ্রাহকের মধ্যে ২৮৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এবং গ্রাহকের সঞ্চয় গ্রহণ করে ৯০ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে এমআরএর সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের বিতরণকৃত ঋণ ও গৃহীত সঞ্চয়ের পরিমাণ যথাক্রমে ২৪৯ হাজার কোটি টাকা ও ৬২ হাজার কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধির হার ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং এমআরএ সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা ৩০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীমউল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন এমআরএর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফসিউল্লাহ্। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. একেএম সাইফুল মজিদ, সিরডাপের পরিচালক (গবেষণা) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস এবং পিকেএসএফএর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। 

অথরিটির নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মাজেদুল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং কর্মশালার বিষয়বস্তুর ওপর বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন অথরিটির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীমউল্লাহ বলেন, দেশে চাহিদা ও সরবরাহ বাড়লে অর্থনীতির অ্যাক্টিভিটিজও বাড়ে। এর ফলে দেশ উন্নতির দিকে যায়। এখন গ্রামগঞ্জে আর ভিক্ষুক পাওয়া যায় না। এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এমআরএ অংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

সেই সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, দক্ষতা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন গবেষণার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করে গবেষণার ওপর জোর দিতে বলেন তিনি। 

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের সুদের হার অনেক কম হলেও অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাদের কাছে যান না। আবার যারা যান বিভিন্ন অজুহাতে তারা ঋণ পান না। উল্টো হয়রানির শিকার হন। তাই বাধ্য হয়ে তারা অধিক সুদের হার এবং সার্ভিস চার্জ উপেক্ষা করেই ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে যান। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের বিনা জামানতে এবং ঝামেলা ছাড়াই ঋণ দেয়। সেই ঋণ পেয়ে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারিত করেন এবং উৎপাদন বাড়ান। এখানে শুধু খরচের দিক বিবেচনা করলেই হবে না। বরং তারা যেভাবে দেশের উন্নয়নের সহযোগী ভূমিকা পালন করছে সেটাই মুখ্য বিষয়। তাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আন্তরিক হতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কারও টাকা আত্মসাৎ করে না। তাদের ক্ষেত্রে ঋণ আদায়ের হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি; যা দেশের ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণীয়।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা