প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৬ পিএম
বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো নিশ্চিতকরণে ৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পটিতে ৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেবে সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি) আর ৩০ লাখ টাকা অনুদান দেবে সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে জুলাই ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য সচিব মো. আবদুল বাকী।
প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো নিশ্চিত করা এবং যথাযথ প্রতিষ্ঠান ও সিস্টেম প্রবর্তনের মাধ্যমে প্রত্যাগত কর্মীদের জন্য টেকসই সেবাসমূহ শক্তিশালীকরণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে কারিগরি সহায়তা দেওয়া।
প্রকল্পটির মূল কার্যক্রম
বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে সহায়তা করা, সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে কারিগরি সহায়তা প্রদান ও বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের জন্য জেলাপর্যায়ে বিদ্যমান উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং ব্যবসার সুযোগসমূহ চিহ্নিতকরণ।
বর্তমানে এ ধরনের একটি প্রকল্প চলমান আছে। বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ৪২৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই অর্থাৎ ৪২৫ কোটি টাকাই ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় দুই লাখ কর্মীকে বাছাই করে তারা কী করতে চান, সেটা জেনে সে অনুযায়ী তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। যেমন কেউ বিদেশে গাড়ি চালাতেন, কিন্তু এখন কোনো সনদ নেই, তাকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিটিআরসি) থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সনদ দেওয়া হবে। সেই সনদ দিয়ে চাইলে ওই কর্মী ফের বিদেশে যেতে পারবেন। কিংবা দেশের মধ্যেই গাড়ি চালাতে পারবেন। ওই কর্মীর যদি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তাকে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। কোনো বিদেশফেরত কর্মী যদি উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহের কথা জানান, তাকে এসএমই ফাউন্ডেশনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সেখান থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি চলমান প্রকল্পের সঙ্গে দ্বৈততা হবে কি না পিইসি সভায় জানতে চাওয়া হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, চলমান প্রকল্পটির সঙ্গে এ প্রকল্পের কোনো দ্বৈততা নেই। এটি একটি স্বতন্ত্র প্রকল্প এবং ওই প্রকল্পের সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ রয়েছে। চলমান প্রকল্পটির আওতায় বিভিন্ন অভিবাসীপ্রবণ এলাকায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের জেলা কার্যালয় নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের জন্য প্রত্যাবর্তিত অভিবাসী কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে যাতে প্রত্যাবর্তিত অভিবাসী কর্মীদের সেবা, কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা যায়।
সভায় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রতিনিধি স্থানীয় প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণের বিষয়, প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া কারিগরি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে সভাপতি বর্ণিত প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন করার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সব দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কারিকুলাম জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লিঙ্ক করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আলোচনায় জিইডি প্রতিনিধি প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বর্ণিত প্রকল্পের অর্থ যথাযথ ব্যবহারের জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সংস্থান থাকা প্রয়োজন মর্মে উল্লেখ করেন।
তা ছাড়া প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা কে হবে তা সঠিকভাবে নির্ধারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। প্রকল্পটির আওতায় সংগৃহীত ল্যাপটপ, আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জাম প্রকল্প সমাপ্তির পর কীভাবে ব্যবহার হবে সে বিষয়েও জানতে চান। সভায় প্রকল্পটির আওতায় বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, শিল্প ও শক্তি বিভাগ এবং আইএমইডির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।