× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিতে বড় পতন

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:২৬ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেই বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে বিপর্যয়। এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। গত জুলাই মাসে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরিতে অর্জন হয়েছে ৯.৮২ শতাংশ। কিন্তু জুন মাসে এই খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মূলত বিনিয়োগ চাহিদা, ঋণযোগ্য তহবিল কমাসহ বিভিন্ন কারণে এমন হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৮৫ ৪৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু এর আগের মাসেও ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিল বেসরকারি খাত। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই ঋণ বিতরণ ৮ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা কমেছে। তবে আগের বছরের জুলাই মাসে যে ঋণ বিতরণ হয় তার চেয়ে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি ঋণ পেয়েছে বেসরকারি খাত। কারণ ২০২২ সালের জুলাইয়ে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৬ কোটি কোটি টাকর ঋণ নিয়েছিলেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা।

ব্যাংকাররা জানান, যে কোনো ঋণের মোট অঙ্ক বা স্থিতির আগের বছরের সুদসহ হিসাব হয়। ফলে আগের বছরের তুলনায় প্রকৃত বা নিট ঋণের পরিমাণ কোনো বিতরণ ছাছাই পরের বছর বৃদ্ধি পায়। সুদ যুক্ত হওয়ার পরেও এবার বেসরকারি ঋণ কমে গেছে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে নতুনভাবে কোনো ঋণই বিতরণ হচ্ছে না।

২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ মাস জুনেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে। সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু গত বছরের মাসের কোনোটিতেই সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি ব্যাংক খাত। তথ্য বলছে, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত জুন শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের মাস শেষে যা ১১ দশমিক ১০ শতাংশ ছিল। আর গত বছরের জুন শেষে ছিল ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ঋণে প্রবৃদ্ধি থাকলেও কমে যাচ্ছে বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ। গত জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ কমে ১ হাজার ৩৩৮ কোটি ডলারে নেমেছে। গত বছরের জুন শেষে যা ছিল ১ হাজার ৭৭৫ কোটি ডলার। এর মানে ১ বছরে কমেছে ৪৩৭ কোটি ডলার বা ২৪ দশমিক শূন্য ৬১ শতাংশ। এর আগে প্রায় প্রতি বছর ঋণ একটু করে বাড়ছিল। বিশেষ করে করোনার মধ্যে ব্যাপক বেড়ে যায়। ২০২০ সাল শেষে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ ছিল ৯১৩ কোটি ডলার। এক বছরে ৬৩৩ কোটি ডলার বা ৬৯ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ২০২১ সাল শেষে হয় ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ডলার। বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি ঋণের বাইরে গত মার্চ পর্যন্ত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণ রয়েছে আরও ৮১০ কোটি ডলার। মূলত সুদ অনেক বেড়ে যাওয়া এবং নতুন ঋণ পাওয়া দুরূহ হওয়ায় বিদেশি ঋণ কমছে।­

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডলারের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। আবার রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ছে। সরকারের বিদেশি ঋণ বেড়ে গত মার্চ পর্যন্ত ৭৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এরপরও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ না কমার প্রধান কারণ স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ কমে যাওয়া। বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিদেশি ঋণে উৎসাহিত করলেও সুবিধামতো মিলছে না। বাজার সামলাতে গত অর্থবছর রিজার্ভ থেকে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের অর্থবছর বিক্রি করা হয় ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে বাজার থেকে প্রচুর উঠে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। ফলে ঋণযোগ্য তহবিল কমছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, পদ্ধতিগত কারণে বাজার থেকে টাকা উঠে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমানত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে খুব কম। এর মধ্যে বেনামি ঋণসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঘরে রেখেছেন। এতে করে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটিসহ আটটি ব্যাংক অনেক দিন ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে পারছে না। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারছে না কোনো কোনো ব্যাংক। এসব কারণে বেশির ভাগ পণ্যের দর বাড়লেও ঋণ সেভাবে বাড়ছে না।

এসব বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া মানে বাজারে টাকা ছাড়া, যা মুদ্রাস্ফীতি ও লেনদেন ভারসাম্যের (বিওপি) ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। অর্থায়ন কমে যায় বেসরকারি খাতে। ফলে কমে যেতে পারে নতুন কর্মসংস্থান। জনগণের হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে, যা দাম বৃদ্ধি করবে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজারে ছাড়লে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক এই কর্মকর্তা। অর্থের প্রচলন বেড়ে গেলে পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বেড়ে যায়, যার ফলে আমদানিও বাড়ে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা