শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ১৬:১৬ পিএম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৩৯ পিএম
নাকুগাঁও স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ। ছবি : সংগৃহীত
দেড় মাস আগেও বন্দরে দেখা যেত ভারত থেকে আসা পাথরভর্তি সারি সারি ট্রাক। ট্রাক লোড-আনলোড, পাথর ভাঙা মেশিনের শব্দ ও শ্রমিকের পদভারে মুখর থাকত বন্দর এলাকা। দৈনিক হাজিরা শ্রমিক ও লোড-আনলোড শ্রমিকসহ প্রায় ৫ হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মনে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু প্রায় দেড় মাস ধরে পাথর আমদানি ও অন্যান্য রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরটি। জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমদানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দুই মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত সরকার। কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনের তথ্যমতে, ৯ জুলাই থেকে ভারতের ব্যবসায়ীরা রাস্তা মেরামতের নামে হঠাৎ করে পাথর রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ঘোষণাটি এক সপ্তাহের জন্য হলেও প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হতে চলেছে এখনও ভারতীয় পাথর বন্দরে না আসায় হতাশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে বন্দর ডিপোতে জমানো পাথরও শেষের পথে। তবে গত কয়েকদিনে ভুটানের পাথরবোঝাই কয়েকটি ট্রাক বন্দরে এলেও তা পরিমাণে খুবই কম।
শেরপুর বোরিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আজাদ মিয়া জানান, এলসি করা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রায় শতকোটি টাকার পাথর ভারতে আটকে আছে। কয়েকদিনের মধ্যেই পাথর আসা শুরু হয়ে যাবে- এমন আশ্বাস দিয়ে আসছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তার কিছুই হচ্ছে না। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই- ভারত সরকারের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে কথা বলে পাথর ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করার ব্যবস্থা করা হোক।
বন্দর শ্রমিক জুলহাস, শিউলি, মুনছর, মনিরা বলেন, আমরা দিন কামাই (রুজি) করে দিন খাই। অনেকের সমিতির কিস্তি আছে। বন্দরে পাথর ভাঙার কাজ করে সংসার চালাই। কিন্তু প্রায় দুই মাস হয়ে গেল পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় সবাই খুব কষ্টে আছি।
নাকুগাঁও স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলম মিয়া বলেন, ‘আগে মাঝেমধ্যে কয়লার ট্রাক এলেও প্রায় এক বছর ধরে কয়লা আমদানি বন্ধ। এখন শুধু ভুটান ও ভারতের পাথরের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে নাকুগাঁও বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বন্দরনির্ভর প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক। শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় আমাদের কোটি কোটি টাকা আটকা পড়ে আছে। বন্দরটি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের লোকসান এবং শ্রমিকরা কর্মহীন হওয়ার পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের উপপরিচালক (এডি) পার্থ ঘোষ বলেন, ‘গত জুন মাসে এ বন্দরে ৮৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা সরকারের রাজস্ব আদায় হলেও জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত অল্প পরিমাণে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। আমদানি কার্যক্রম চালু থাকলে এ বন্দরে দুই মাসে রাজস্ব প্রায় দেড় কোটি টাকা আদায় হতো। পাশাপাশি শ্রমিকরাও কাজ করে তাদের সংসার চালাতে পারত।’