× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সেপ্টেম্বরে ৭৭ কোটি ডলারের আন্তঃব্যাংক লেনদেন

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২২ ২০:১৯ পিএম

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২ ২০:৩০ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

সেপ্টেম্বরে ব্যাংক ও ব্যক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৭৭ কোটি ডলারের (৭৭০ মিলিয়ন) আন্তঃব্যাংক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ছয়টি বৈদেশিক মুদ্রায় আন্তঃব্যাংক লেনদেন চালু করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এক মাসে মাত্র দুই ধরনের মুদ্রায় লেনদেন করেছে ব্যাংকগুলো। 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলার ও ইউরোতে এক মাসে ২০ হাজার ৫৫৩টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এ সংখ্যার পুরোটাই আবার ব্যাংক থেকে ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন নয়। আর ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেন হয়েছে ৯০৯ বার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে বৈদেশিক মুদ্রায় সবচেয়ে বেশি লেনদেন করছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছে ইউসিবি ব্যাংক। এরপর ইস্টার্ন, এক্সিম, প্রাইম ও ঢাকা ব্যাংক। এক মাস আগেও শুধু দেশীয় মুদ্রা টাকার ক্ষেত্রে আন্তঃব্যাংক লেনদেন পদ্ধতি চালু ছিল। একটা সময় আন্তঃব্যাংক লেনদেনের মাধ্যম ছিল কাগজ-কলমভিত্তিক সনাতন পদ্ধতি। তখন ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ লেনদেন দিন শেষে নিষ্পত্তি হতো।

গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছে, দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি ডলারসহ অন্যান্য বিদেশি মুদ্রার রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট-আরটিজিএস বা তাৎক্ষণিক লেনদেন শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন এ পদ্ধতিতে ব্যাংকগুলো আরও আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারবে।

আরটিজিএসের ব্যবহার সম্পর্কিত একটি নীতিমালাও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে এখন মার্কিন ডলার, যুক্তরাজ্যের পাউন্ড, ইউরো, কানাডার ডলার ও জাপানের ইয়েন মুদ্রা কাগজ-কলমভিত্তিক সনাতন লেনদেনব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হচ্ছে। তাৎক্ষণিক লেনদেন শুরু হলে এ পাঁচ বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে চীনা মুদ্রা ইউয়ান যুক্ত হবে। তখন ব্যাংকগুলো মোট ছয়টি বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নতুন এই পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আরটিজিএসের এ লেনদেনব্যবস্থার পরিচালনা পদ্ধতি দেশীয় ও বিদেশি মুদ্রার ক্ষেত্রে একই হবে। এতে ব্যাংকগুলো দ্রুত সময়ে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা নিতে পারবে। তাতে আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তি আরও সহজ হবে। ফলে ব্যাংকিং থেকে শুরু করে ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, আগে একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিলে তা পরের দিন গ্রাহক ব্যাংকের হিসাবে জমা হতো। এখন সেটা হবে তৎক্ষণাৎ। এতে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনমতো ওই বৈদেশিক মুদ্রা সেদিনই ব্যবহার করতে পারবে। প্রয়োজন অনুসারে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার বেড়ে যাবে। এক দিনেই একই মুদ্রা কয়েক ব্যাংকের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে।

প্রকাশিত আরটিজিএস নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো যেকোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আরটিজিএসের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে। তবে কী কারণে এ লেনদেন করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে আরটিজিএসের নির্দিষ্ট অনলাইন ফরমে জানাতে হবে।

এ বিষয়ে বেসরকারি একাটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের হিসাবে যত দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিষ্পত্তি হবে, তত দ্রুত ব্যাংক নিজের প্রয়োজনও মেটাতে পারবে। এতে ব্যাংকিংয়ে গতি আসবে। ব্যাংকগুলো আরটিজিএসের মাধ্যমে অনুমোদিত এডি শাখা ও ব্যাংকের প্রধান শাখায় এ লেনদেন করতে পারবে। অন্য কোনো শাখা থেকে এ লেনদেন করা যাবে না।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, আরটিজিএস ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রায় অটোমেটেড ক্লিয়ারিং বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হলো। এভাবে ধারাবাহিক আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি ক্যাশলেস বেসড সোসাইটি গঠনের মাধ্যমে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে সব ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

উদ্বোধনের দিন এ ব্যবস্থায় ৫২টি লেনদেন নিষ্পন্ন হয়। আরটিজিএস ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রায় ক্লিয়ারিং ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হবে। চেক বা এফডিডি নিয়ে ক্লিয়ারিংয়ের জন্য কোনো ব্যাংকের প্রতিনিধিকে আর সশরীরে উপস্থিত হতে হবে না। এর ফলে চেক বা এফডিডি ড্যামেজ হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া-সংক্রান্ত ঝুঁকি ও প্রতারণা বা জালিয়াতির সুযোগ আর থাকবে না বলেও জানান গভর্নর।

প্রবা/রনি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা