এম আর মাসফি
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১৫:১৫ পিএম
বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীদের বিকল্প পদ্ধতিতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ৩৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কিশোর-কিশোরীদের দক্ষতাকেন্দ্রিক সাক্ষরতা পাইলট প্রকল্প হাতে নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের পুরো টাকাই অনুদান হিসেবে দেবে ইউনিসেফ। প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০২৪ মেয়াদে কক্সবাজার জেলায় বাস্তবায়ন করবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে শ্রমঘন অর্থনীতিকে দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা অপরিহার্য। প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য ও কৌশল সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে; যা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশের বিদ্যমান ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা গ্রহণ করে কর্মক্ষম যুবদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার সন্তোষজনক হলেও পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, মাধ্যমিক স্কুল গমনোপযোগী প্রায় ৪০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী বিদ্যালয়বহির্ভূত আছে। এর মধ্যে ১৫-২৫ বছর বয়সি প্রায় ২৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী ও যুব জনগোষ্ঠী কোনো প্রকার চাকরি, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই; যা দক্ষতাভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ১৪-১৮ বছর বয়সি বিদ্যালয়বহির্ভূত কিশোর-কিশোরীদের বিকল্প পদ্ধতিতে বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন ট্রেডে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে কর্মে নিয়োগের পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় ১৫টি ট্রেড নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার জেলার সকল উপজেলায় প্রকল্পটি পাইলট হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে; যেখানে কক্সবাজার জেলার হোস্ট কমিউনিটির ৬৫০০ কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ/দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। প্রকল্পের সফলতা/ফলাফলের ভিত্তিতে পর্যালোচনাপূর্বক পরবর্তীকালে তা জাতীয় কর্মসূচিতে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তিনটি মডেলে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রথমত ৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কক্সবাজার টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কক্সবাজার দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভৌত সুবিধাদি ব্যবহার করে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য হতে ২৫ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে ৪-৬ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। দ্বিতীয়ত, ওয়ার্কস্টেশন বা কর্মস্থলভিত্তিক অ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রশিক্ষণ মডালিটির আওতায় মোট নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীর ৬০ শতাংশকে ০৬ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে ৯৭৫ জন মাস্টার ক্রাফটসম্যানকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে গড়ে তুলে প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। আর তৃতীয়ত, মোবাইল প্ৰশিক্ষণের আওতায় ১৫ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থী দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। বিভিন্ন উপজেলায় প্রশিক্ষণ স্থান ভাড়া নিয়ে প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষিত ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে মাস্টার ক্রাফট ব্যক্তির (এমসিপি) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোর্স পরিচালনা। এর মাধ্যমে ৩৯০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে ১৬২৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আউট স্টেশনভিত্তিক মোবাইল কোর্স পরিচালনা। এর মাধ্যমে ৯৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে রিসার্চ ইমপ্লিমেন্টেশন, প্রোগ্রেস টেকিং থ্রোআউট দি প্রজেক্ট অ্যান্ড ফাইনাল রিপোর্টিং ১টি ফার্ম, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন এসেট ডেভেলপমেন্ট ১টি ফার্ম, টেকনিক্যাল বেকস্টপিং ফর স্ট্যান্ডারাইজেশন অ্যান্ড কোহেরেন্স উইথ ন্যাশনাল প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড প্রোগ্রেস মনিটরিং, ডকুমেন্টেশন অ্যান্ড রিপোর্টিং ৩৬ জন মাস। প্রোগ্রাম ডেলিভারি (কোর্স) প্যাকেজ অ্যান্ড কারিকুলাম ডিজাইনিং অ্যান্ড টিওটি ফর ট্রেইনার অব ইনস্টিটিউশন বেইজড অ্যান্ড আউটস্টেশন ভেইজড কোর্স ৪০ জন মাস। রিয়েল টাইম মনিটরিং (জিপিএস ট্রেকার সাপোর্টেড) সফটওয়্যার অ্যান্ড টুল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রোভাইড ট্রেনিং টু দি কনসানড প্রজেক্ট পারসোন্যাল, উপজেলা ওয়াইজ স্ক্যানিং অ্যান্ড ম্যাপিং অব ওওএসএ এন্টারপ্রাইজেস অ্যান্ড স্কোপ ফর আউটস্টেশন বেইজড ট্রেনিং উইথ ওরিয়েন্টশন এবং সেটিং ভেন্যু/অ্যারেঞ্জমেন্ট উইথ রিকোয়ার্ড ফেসিলিটিজ (ফর ইনস্টিটিউশন, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আউটস্টেশন বেইজড কোর্স)।
প্রকল্পটির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মো. আশরাফুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে ইউনিসেফের অনুদানে একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি কক্সবাজার জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে ছয় হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।