× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এক বছরেই আয় কমেছে আড়াই কোটি টাকা

নাঈম ইসলাম, শেরপুর

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৩ ১৪:৩৪ পিএম

শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর। প্রবা ফটো

শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দর। প্রবা ফটো

শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরে ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় কমেছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হওয়ার পরও ১৮টি অনুমোদিত পণ্য আমদানির কথা থাকলেও কেবল পাথরে ভর করে চলছে আমদানি কার্যক্রম। দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল রাজ্যের একটি অংশ এবং পাশের ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে করা গারো পাহাড়ের এই বন্দরটি। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার কর্মচাঞ্চল্য, আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর বেকারত্বের আশঙ্কায় রয়েছেন হাজারো শ্রমিক। এদিকে গেল অর্থবছরে বন্দরের আয় যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে সরকারের রাজস্ব আদায়ও। এ স্থবিরতা দ্রুতই কাটিয়ে উঠবে, আশা বন্দর কর্মকর্তাদের।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৩ হাজার মেট্রিক টন পণ্য কম আমদানি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪১ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হলেও ২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য আমদানি হয়েছে মাত্র ২৯ কোটি টাকার। এই বন্দর দিয়ে অনুমোদিত আমদানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, পাথর, কয়লা, রাসায়নিক সার, বল ক্লে, কোয়ার্টাজ, চায়না ক্লে, কাঠ, টিম্বার, চুনাপাথর, পেঁয়াজ, মাছের পোনা, বৃক্ষ, বীজ, গম, মরিচ, রসুন, আদা ও তাজা ফলমূল।

এদিকে ভুটান এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে আগ্রহী। কিন্তু ভারতের ঢালু সড়ক ব্যবহার করে আসতে হবে সেসব মালামাল, বিপত্তিই সেখানে। ট্রানজিট সমস্যার কারণে ভুটানের সঙ্গে এ বন্দর দিয়ে ব্যবসা হচ্ছে না। ভুটান বাংলাদেশ থেকে প্রধান পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাক আমদানি করতে চায়। এর বিপরীতে পাথর, ফলসহ তাদের তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে চায়। এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।

চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি এগিয়ে নেওয়ার জন্য এ বন্দর পরিদর্শন করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুইন্ডছিল। এ সময় রিনচেন কুইন্ডছিল জানান, ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বৈরিতা নেই। শুধু ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি অনুমোদন হলেই গার্মেন্টস পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য ভুটান আমদানি করতে পারবে। এতে দুই দেশের ব্যবসা বাড়বে। শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরসহ ময়মনসিংহের গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস পণ্য নিতে চুক্তি করেছে ভুটান।

বন্দরের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলছেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ-ভুটানের ভৌগোলিক অবস্থান কাছাকাছি থাকলেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগোচ্ছে না। এর কারণ ভারতের ট্রানজিট সমস্যা।

বন্দরের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন গাজি বলেন, ‘এলসি করেও পণ্য আমদানি করতে না পারায় লোকসান গুনতে হচ্ছে দিনের পর দিন। কেবল পাথর আমদানি করে ব্যবসা চালানো মুশকিল। একাধিকবার ভারতের সঙ্গে আমাদের নেতারা বৈঠক করেও বাকি ১৮টি পণ্য আনতে পারেননি। ভুটানের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে, কিন্তু সুরাহা মেলেনি। ঠিকমতো ব্যবসা হচ্ছে না বন্দরে। এতে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।’

নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলম মিয়া বলেন, কেবল পাথরে ভর করে একটা বন্দরের ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হতে পারেন না, তেমনি শ্রমিকরাও ঠিকমতো কাজ পান না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে গেলে কমপক্ষে হাজার খানেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভারত ও ভুটানের সঙ্গে আমদানির পাশাপাশি চাহিদা মোতাবেক পণ্য রপ্তানি শুরু করতে পারলে পাল্টে যাবে বন্দরের চিত্র। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ভারতের কাস্টমস জটিলতায় তা আটকে আছে। পাথর আর কয়লা ছাড়া অনুমোদিত বাকি সব পণ্য আমদানিও করা যাচ্ছে না। আমরা এনবিআরের কাছে বারবার আবেদন করেও অনুমোদিত পণ্য সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়বে, সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।’

নাকুগাঁও স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও অনুমতি নিয়ে বন্দরকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে। দ্রুতই সংকট কেটে ঘুরে দাঁড়াবে বন্দরের অর্থনীতি।’

নাকুগাঁও কাস্টমস রেভিনিও অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৈশ্বিক মন্দাভাব ও ডলারের দাম বাড়ানোর কারণে ব্যবসায়ীরা ঠিকভাবে এলসি করতে পারেননি। তাই পণ্য কেনার সুযোগ হয়নি তাদের। তবে জানুয়ারি থেকে পণ্য আমদানি বেড়েছে। তবে অর্থবছরের সার্বিক চিত্র গতবারের চেয়ে কম। আমরা এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ কাস্টমসের কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের তিনটি এলসি পয়েন্ট দিয়ে ভুটান বাংলাদেশে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করবে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার এলসি পয়েন্টগুলো হলোÑ নাকুগাঁও, গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী। আর নাকুগাঁও স্থলবন্দরে তালিকাভুক্ত পণ্যের ১৯টি তালিকার বাইরেও পর্যায়ক্রমে আরও পণ্য বাড়বে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থলবন্দর হলোÑ নাকুগাঁও স্থলবন্দর। সুতরাং এটির উন্নয়নের মাধ্যমে আরও কীভাবে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো যায় সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করব।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা