প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৩ ১৯:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক এবং পদ্ধতিগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ভারতের অন্যতম অনলাইনভিত্তিক পাঠদান প্রতিষ্ঠান বাইজুস। করোনাকালীন সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় প্রতিষ্ঠানটি। সে সময়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয় বাইজুসের। তবে ২০২১ সাল থেকে কমতে শুরু করে প্রবৃদ্ধির হার। সে সময় ৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা জানায় বাইজুস। যেখানে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় আগের বছরের তুলনায় ১৭ গুণ বেশি। এরপর ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদের কথা জানায়। তবে চলতি বছরের এ সম্পদের মূল্যমান কমে দাঁড়িয়েছে ৫১০ কোটি ডলারে, জানিয়েছে স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন বাইজুসের।
২০১১ সালে বাইজু রবীন্দ্রন ও দিব্যা গোকুলনাথের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে বাইজুস। তবে ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় প্রতিষ্ঠানটি। করোনাকালীন সময়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ে লার্নিং অ্যাপটি। এ সময় সম্ভাবনাময় নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামনে আসে স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানটি।
বাইজুস ২০১৭ সালে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি গণিত শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপ চালু করে। যার ফলে ২০১৮ সাল নাগাদ বাইজুস লার্নিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ। তবে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখানেই প্রথম ৯ লাখে পৌঁছে। তারপর ২০১৯ সাল থেকে প্রসার ঘটে বাইজুসের। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপর্যয়ের বিষয়ে ব্যবসাবিষয়ক গবেষক শ্রীরাম সুব্রামানিয়ান বলেন, ‘মহামারির লকডাউন উঠে যাওয়ায় স্কুলে ফিরতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। ফলে লার্নিং অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমতে থাকে। এতেই ব্যবসায়িক মন্দার সম্মুখীন হতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। কিন্তু সে সময়েও বিনিয়োগকারীরা বাইজুসে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে এবং বাইজুসের আসন্ন আর্থিক বিপর্যয়ের বিষয়টি তারা বুঝতে পারেননি।’
স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের পরিমাণ ব্যাপক হারে কমার বিষয়ে বাইজুসের বিনিয়োগকারী অনিরুদ্ধ মালপানি বলেন, ‘বাইজুসের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ একটি ভালো বিষয় ছিল। করোনা মহামারিতে তাদের আকস্মিক ব্যবসায়িক প্রসার ঘটে। ২০২১ সালে বাইজুস ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে বেশ কয়েকটি নতুন শিক্ষাবিষয়ক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অধিগ্রহণ করে। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের মূল্যমান অনেক কমে এসেছে।’
এদিকে বাইজুস ব্যবসায়িক প্রসারের জন্য প্রচার-প্রচারণায় বিশাল বিনিয়োগ করে। এর মধ্যে রয়েছে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানকে দিয়ে টিভি বিজ্ঞাপন নির্মাণ এবং ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে ক্রমাগত প্রচার। এমনকি শাহরুখ খান এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে বাইজুসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া তারা ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর এবং ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের একটি আনুষ্ঠানিক স্পন্সর ছিল তারা। তবে এত কিছুর পরেও প্রতিষ্ঠানটি উঠে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।
এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। বাইজুসের অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অভিভাবকরা প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন। আরও অভিযোগ উঠেছে, ব্যয়বহুল কোর্স কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে বাইজুস এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিষেবা প্রদান করছে না তারা। কেউ কেউ আবার বলছেন গ্রাহকদের শোষণ করার জন্য নানান কৌশল ও পন্থা অবলম্বন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া বিশ্বের সকল বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালন ব্যয় ও খরচ কমানোর অজুহাতে কয়েক ধাপে কর্মী ছাঁটাই করেছে বাইজুস। প্রতিষ্ঠানটির ছাঁটাইকৃত অনেক কর্মী বলেন, ব্যয়বহুল বিভিন্ন প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে খরচ কমানোর অজুহাতে কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়।
তবে অভিভাবক এবং কর্মীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাইজুস। যদিও এরই মধ্যে সরকারের তদন্তের সম্মুখীন হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সার্বিক বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তারা। সূত্র : বিবিসি