চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৩ ১২:৫৯ পিএম
আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৩ ১৩:০৯ পিএম
দেশের বৃহত্তম আমবাজার কানসাট থেকে সম্প্রতি তোলা ছবি। প্রবা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম্রপালি আমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফজলির দাম কমেছে। ফলে ফজলি চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাবলি থাকায় আম্রপালির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। একই সময়ে বাজারে ফজলি আম নামায় দাম কমেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, প্রচলিত আমবাগানে প্রায় ১৫ শতাংশ ফজলি আমগাছের আবাদ হয়।
দেশের বৃহত্তম আমের বাজার কানসাটে সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে গুটি জাতসহ বিক্রি হচ্ছে পাঁচ রকমের আম। রকমভেদে বাজারে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। কানসাট আমবাজারে সব ধরনের গুটি জাতের আম মণপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০, লক্ষ্মণভোগ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, বারি-৪ আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
আমবাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ফজলির দামের তুলনায় আম্রপালির দামই বেশি। বাজারে প্রতি মণ ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। অন্যদিকে আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
শনিবার শিবগঞ্জ উপজেলার কালুপুরের আমবাগানি আ. রাজ্জাক কানসাটে বিক্রির জন্য ৫ মণ ফজলি আম এনেছেন। বাজারে ফজলি আমের চাহিদা কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরেও বিক্রি হচ্ছে না। তিনি বলেন, মানুষ ফজলি আমের চেয়ে আম্রপালি খেতে বেশি পছন্দ করছে। ফলে আম্রপালির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফজলি আমের দাম কমে গেছে।
তিনি জানান, বর্তমান বাজারে ফজলি আমের মণ রকমভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্রুড ব্যাগিং করা ফজলি আমের মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। ফজলি আমের খরচের তুলনায় দাম কম পাওয়া যাচ্ছে।
কানসাট-শ্যামপুর এলাকার আশরাফ নামে এক আম ব্যবসায়ী জানান, আমবাজারে ফজলি ও আম্রপালি একসঙ্গে নামার কারণে দাম কমেছে। দিন দিন ফজলি আমের চাহিদা কম থাকায় লোকসান হওয়ায় চাষিরা গাছ কেটে ফেলছেন।
তিনি জানান, বর্তমান বাজারে আম্রপালির প্রতি মণ ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিকের দাবি, বাগানের গাছে এখনও ৮০ শতাংশ ফজলি আম ঝুলছে। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ফজলি আমের চাহিদা কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে লোকসান গুনছেন চাষি ও বাগানমালিকরা। যতদিন না ফজলি আমের প্রসেসিং করে বাই প্রডাক্ট হবে (আচার, আমসত্ত্ব-জাতীয় খাবার), ততদিন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন আমের চাষ হচ্ছে। এখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জের উৎপাদিত আম দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে আমের হাট থাকায় সেসব হাটে ব্যাপারীদের আনাগোনা বাড়ছে, একই সঙ্গে কানসাট আমবাজারে কমছে। ফলে ফজলি আমের চাহিদা কমেছে, চাষিরাও কম দামে আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ফজলি আমের দাম বৃদ্ধি করতে বিশ্ববাজারে আম রপ্তানিতে ব্যাপক জোর দিচ্ছেন জেলা কৃষি বিপণনের কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে কয়েকজন আম রপ্তানিকারকের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই বিদেশের বাজারে রপ্তানি হবে ফজলি আম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক পলাশ সরকার বলেন, আম্রপালি আমের গুণগত মান এবং মিষ্টতার কারণে এর চাহিদা প্রচুর। বাগান থেকেই আম বিক্রি করা যাচ্ছে। আমবাগানগুলোয় আম্রপালি আমের চাষ বেড়েছে।
তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে ফজলি আমের চাষাবাদ হচ্ছে। এতে গাছ রয়েছে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৫টি। অন্যদিকে জেলায় ২ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১০৫টি গাছে আম্রপালি চাষাবাদ হচ্ছে।
এবার জেলায় ৩৭ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে আম চাষাবাদ হচ্ছে। চলতি বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন।