চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৩ ১৬:৪৩ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৩ ২০:২১ পিএম
রাজাবাবু ষাঁড়। প্রবা ফটো
গলায় লাল ফিতা ও মাথায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ফুল। হাঁটাচলার ভাবখানা একদম রাজকীয়। শখ করে মালিক ষাঁড়টির নাম রেখেছেন রাজাবাবু। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসন্ন ইদুল আজহায় এবার আলোচনায় রয়েছে ৩৫ মণ ওজনের রাজাবাবু। বিশাল দেহের ষাঁড়টি শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের জুলফিকার আলীর। তিনি ষাঁড়টিকে পরম যত্নে লালন-পালন করেছেন। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের সাদা-কালো রঙের বিশাল দেহের ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৭ লাখ টাকা।
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গরুর খামার করছেন সাবেক ইউপি সদস্য জুলফিকার আলী। কোরবানি ঈদে পশুর হাট মাতানোর জন্য ৩৫ মণ ওজনের রাজাবাবু ষাঁড়টিকে বিশেষভাবে যত্ন করছেন তিনি। প্রতিদিন তার খাবার খরচ প্রায় হাজার টাকা। সম্পূর্ণ স্টেরয়েডবিহীন খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত শান্ত স্বভাবের গরুটি দেখতে ছুটে আসছেন মানুষ।

শাহবাজপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘আমাদের গ্রামে বিশাল একটি ষাঁড় আছে। এটি দেখতে মানুষ ভিড় করে ও ছবি তোলে। বাজারের দোকানে দোকানে কথা হয় জুলফিকার খামারির বিশাল এ ষাঁড় নিয়ে। আশপাশের ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে রাজাবাবুকে দেখতে আসে মানুষ।’
উপজেলার মনকষা ইউনিয়ন থেকে আসা ফারুক হোসেন বলেন, ‘পশুদের নিয়ে নতুন কোনো খবর পেলেই জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখার অভ্যাস আমার। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে রাজাবাবুকে দেখতে এসেছি। আগামী বছর ঈদুল আজহায় এমন বিশালাকৃতির ষাঁড় পালন করার ইচ্ছে আছে আমার।’

গত বছর কোরবানির মৌসুমে ৩২ মণ ওজনের ‘চাঁপাই সম্রাট’ নামে একটি ষাঁড়ের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন খামারি জুলফিকার আলী। গত বছর চাঁপাই সম্রাটের ভালো দাম পাননি তিনি। এবার রাজাবাবুকে নিয়ে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
জুলফিকার আলী বলেন, ’আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য রাজাবাবুকে প্রস্তুত করা হয়েছে। শান্ত স্বভাবের এ ষাঁড়কে ধান-চাল-গম-ভূষিসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য খাওয়ানো হয়। দিনে একাধিকবার গোসল করানো হয় রাজাবাবুকে। স্থানীয় পশুর হাটের পাশাপাশি দেশের বড় হাটে রাজাবাবুকে নিয়ে যাওয়া হবে বিক্রি জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার খামারে থাকা রাজাবাবুর কথা জেলা-উপজেলা প্রাণিসম্পদের প্রায় সব কর্মকর্তা জানেন। মাঝেমধ্যে সরকারি কর্মকর্তারা রাজাবাবুকে দেখতে আসেন। তারা আমাকে সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ’জুলফিকার আলীর খামারে থাকা রাজাবাবু নামে বিশাল ষাঁড়টিকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামীতেও করা হবে। জুলফিকার আলী তার নেশা থেকেই এসব ষাঁড় লালন-পালন করেন। গত বছর চাঁপাই সম্রাটের ভালো দাম না পেলেও এবার রাজাবাবুর দাম পাবে।’
এবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কোররবানি পশুর চাহিদা থেকেও উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু আছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬০৯টি। অন্যদিকে জেলায় চাহিদা আছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৯টি। সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ৩১১টি উদ্বৃত্ত আছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।