শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৩ ১৪:১৫ পিএম
নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। প্রবা ফটো
করোনার সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া শেরপুরের নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ফের চালুর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় এই ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারত যাত্রী পারাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দরটি চালু করার আদেশ দেয়। তবে সার্ভার জটিলতায় এখনও চালু হয়নি যাত্রী চলাচলের কার্যক্রম। আর কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে রবিবার ও সোমবার নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, সার্ভার জটিলতায় পাসপোর্ট ও ভিসা প্রসেসিং করা যাচ্ছে না।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসের তথ্য মতে, করোনা সংক্রমণের কারণের ২০২০ সালের মার্চের ২২ তারিখ থেকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরের এ চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার ও সকল প্রকার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে পাথর ও কয়লা আমদানি শুরু হলেও বন্ধ থাকে যাত্রী পারাপার। ২০২২ সালের ২৬ জুন নাকুগাঁও স্থলবন্দর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কার্যক্রম পুনরায় চালুর জন্য বাংলাদেশের পক্ষে অনুমতি দিলেও ভারত থেকে অনুমতি পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে গত সপ্তাহের ৭ জুন ভারতের পক্ষ থেকে যাত্রী পারাপারের অনুমতি প্রদান করে।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মজনু মৃধা বলেন, ‘আমি প্রায়ই ভারতে ঘুরতে যাই। কিন্তু এখানে ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় লালমনিরহাটের চেংড়াবান্ধা অথবা বেনাপোল হয়ে যেতে হয়েছে। এতে আমাদের সময় ও খরচ দুটোই বেশি লেগেছে। আর নাকুগাঁও দিয়ে ভারতে কম খরচে যাওয়া যায় এবং সময়ের অপচয় কমে। তাই দ্রুত সময়ে এ চেকপোস্ট চালুর দাবি জানাচ্ছি।’
শ্রীবরদী পৌরসভার বাসিন্দা সানজিদা জেরিন বলেন, ‘আমাদের সন্তানের চিকিৎসার জন্য ভারতে বছরে দুইবার যেতে হয়। নাকুগাঁও দিয়ে যেতে পারলে অনেক সুবিধা হয়। বেনাপোল হয়ে বা বিমানে করে গেলে অনেক বেশি অর্থ খরচ হয়। যদি আমাদের এ চেকপোস্ট খুলে দেওয়া হয় তাহলে অল্প খরচেই যাতায়াত করা যাবে।’
ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানান, দীর্ঘ সময় ভারতে যাতায়াত বন্ধ থাকায় মুঠোফোনে পাথর ও কয়লা কিনলেও যাচাই-বাছাই করে কিনতে পারেনি। ফলে অনেক সময় ভেজাল পণ্য পাঠিয়ে দিত। এতে আমাদের প্রচুর পরিমাণ লোকসান হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই সব জটিলতা শেষ করে ইমিগ্রেশন চালুর দাবি তাদের।
নাকুগাঁও বন্দরের মেসার্স সামাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমরা বন্দরে কয়লার ব্যবসা করি। মেঘালয়ের গাছুয়াপাড়া হতে আমরা কয়লা ক্রয় করি। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা থেকে ভারতের গাছুয়াপাড়া খুব কাছেই, মাত্র ২ ঘণ্টার পথ। দিনের বেলা গিয়ে কয়লা দেখেশুনে কিনে আবার দিনেই চলে আসা যায়। কিন্তু এই বন্দরের ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে আগরতলা ও লালমনিরহাটের চেংরাবান্ধা দিয়ে আমাদের মেঘালয়ে যেতে হয়। এতে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়, যার কারণে সময় প্রচুর লাগে। ভাড়াও অনেক বেশি পড়ে যায়। তাই গাছুয়াপাড়া কয়লার হাটে নিয়মিত যাওয়া হয় না।’
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়া বলেন, ‘আমাদের এ ইমিগ্রেশন চালু হলে দেশের বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ীরা এ বন্দরে ব্যবসা বাড়াবে। তা ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও মেঘালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে মাল কিনতে পারবে। এতে বন্দরের শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রও বেড়ে যাবে।’
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুণ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘মেঘালয়ের কয়লার সবচেয়ে বড় হাট লাঙলে আগে আমরা দিনের বেলায় গিয়ে কয়লা দেখে মান ও দাম যাচাই করে দিনেই চলে আসতাম। কিন্তু ইমিগ্রেশন বন্ধ হওয়ার পর থেকে লাঙল হাটে যেতে আমাদের সিলেটের দাউকি চেকপোস্ট বা বেনাপোল দিয়ে ভারতে ঢুকতে হয়। এতে আমাদের অনেক ঘুরে ঘুরে লাঙল হাটে পৌঁছতে হয়। তাই এ ইমিগ্রেশনটি দ্রুত চালু করলে আমাদের ব্যবসা আরও চাঙ্গা হবে।’
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইমিগ্রেশন চালু হলে ভারতের মেঘালয়ে গিয়ে পণ্যের মান যাচাইবাচাই করে কেনা যাবে। আর তা না হলে ফোনে ফোনে যোগাযোগ করে ব্যবসা করা মুশকিল। অনেক ব্যবসায়ীর টাকাও খোয়া গেছে। ইমিগ্রেশনটি দ্রুত চালু হলে এ বন্দর দিয়ে আরও বেশি পণ্য আমদানি করতে পারব। বন্দরে বাড়বে ব্যবসার পরিধি। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে সরকারের।’
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইওয়ান) জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সার্ভার আপডেটের কাজ চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি খুব দ্রুত কারিগরি এ সমস্যা সমাধান করে বিধি মোতাবেক যাত্রী চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।’