প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৩ ১১:০৭ এএম
পোশাক কারখানায় কাজ করছেন নারী শ্রমিক। প্রবা ফটো
দেশে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নানা সংকট এবং চ্যালেঞ্জের মধ্যে এ খাতের আয় ইতিবাচক ধারায় রাখতে চেষ্টা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার, তার অনেকটাই কাছাকাছি রয়েছেন রপ্তানিকারকরা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত আয় করেছে ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ডলার।
ইপিবি এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত ১১ মাসের মধ্যে তিন মাসের আয় ছিল নেতিবাচক। তবে বাকি ৮ মাসের আয় বেশ ইতিবাচক ধারায় থাকায় রপ্তানি আয় শক্ত অবস্থানে পৌঁছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাইয়ে ছিল ২৮৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার। একই ভাবে চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে রপ্তাানি আয় ছিল ৩৭৪ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। তবে রপ্তানি আয় নেতিবাচক দেখা দেয় সেপ্টেম্বর মাসে।
সেপ্টেম্বরে ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যা ২০২১-২২ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ৩৪১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর পর চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। নভেম্বরে ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ডিসেম্বরে ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়।
পরিসংখ্যানে মার্চ এবং এপ্রিলে রপ্তানি আয় আবারও ঋণাত্মক ধারায় দেখা যায়। চলতি অর্থবছরের মার্চ মাসে আয় হয় ৩৮৯ কোটি ডলার, যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৯৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার। একই ভাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের এপ্রিল মাসে পোশাক রপ্তানি করে আয় হয় ৩৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার। সর্বশেষ গত মে মাসে আয় হয় ৪০৫ কোটি ৩২ লাখ ডলার, যা ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩১৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছর ব্যবধানে আয় বেড়ছে ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
পোশাক রপ্তানির বড় দুই বাজার জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে রপ্তানি আয় নেতিবাচক থাকলেও অপ্রচলিত বাজারে আয় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে খুব একটা বেগ হতে হচ্ছে না ব্যবসায়ীদের।
রপ্তানি আয়ের বিষয়ে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। জুন মাসে রপ্তানি আয় ইতিবাচক ধারায় থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি প্রভৃতি সমস্যা ও সংকটের মধ্যেও ভালো করার চেষ্টা চলছে। জ্বালানি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। রপ্তানি আয় বাড়াতে সব ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশ্যই আরও ভালো করা যাবে।