এহসানুল হক সুমন, রংপুর
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৩ ১৩:৩৮ পিএম
রংপুরে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজার জমে উঠেছে। প্রবা ফটো
রংপুরে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজার জমে উঠেছে। এই এলাকার বাজারের দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাথের ভ্যানে বিক্রি হচ্ছে হাঁড়িভাঙ্গা আম। চলতি মৌসমে জেলায় ১ হাজার ৯০৫ হেক্টর জমির আমের বাগানে ফলন হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। এ মৌসমে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
রংপুর নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জাহাজ কোম্পানি মোড়ে হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করছেন রবিউল ইসলাম। তার সাইকেলের ক্যারিয়ার আর সিটের সামনে রডে রাখা দুটি ডালিতে দুই মণ আম। তিনি এসেছেন হাঁড়িভাঙ্গার রাজধানী মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ থেকে। রবিউল জানান, কৃষিকাজের চেয়ে আম বিক্রিতে লাভ বেশি। তিনি তিন মণ আম নিয়ে এসেছেন। মাঝারিগুলো প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা আর বড় আম ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন।
পদাগঞ্জের পাইকারের হাট থেকে আসা সাইফুল আলম নগরীর বেতপট্টি এলাকায় হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করছেন। আমের মৌসুমের আগে তিনিও কৃষিকাজ ও ভ্যান চালাতেন। শনিবার থেকে বাজারে আম বিক্রি শুরু হওয়ায় তিনি তিন মণ আম ভ্যানে এনেছেন। কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।
সাইফুল আলম নামের আরেক বিক্রেতা জানান, ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে। সিজেনের প্রথম আম তো, সেই জন্য মানুষ সমানে কিনে নিয়া যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তায় ট্রাফিক ভ্যান রাখতে না দেওয়ায় তিনি ঘুরে ঘুরে আম বিক্রি করছেন।
পায়রা চত্বরে সাইকেলে করে আম বিক্রি করছেন আখিরারহাটের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র আমিনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর আমের মৌসুমে আমাদের এলাকার প্রত্যেকটি মানুষ আমের ব্যবসায় জড়িত হন। এখানে কেউ আমচাষি আছেন, কেউ আম পাড়ার সঙ্গে জড়িত, কেউ হাটে আম পরিবহন করেন, কেউ খাঁচা কিংবা ক্যারেটে আম প্যাকিং করেন। আমি প্রতি বছর এই সময় সাইকেলে করে শহরে আম বিক্রি করি। এ থেকে আমার ভালো লাভ হয়, যা দিয়ে লেখাপড়ার খরচ মিটে যায়।’
হাঁড়িভাঙ্গা আমের ক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, হাঁড়িভাঙ্গার জন্য রংপুরসহ গোটা দেশবাসী এক বছর অপেক্ষায় থাকেন। সরকারিভাবে যেহেতু শনিবার থেকে আম বিক্রি শুরু হয়েছে, তাই প্রথম দিনে আমি আম কিনলাম। বড় সাইজের আম ৬০ টাকা কেজি দরে কিনতে পেরেছি। তবে রাস্তায় বিক্রি করা বেশিরভাগ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন ছোট সাইজের আম।
হাঁড়িভাঙ্গা আমের মৌসুম শুরু হলে রংপুর শহরের সড়কসহ অলিগলিতে আমের কেনাবেচা চলে। সকাল থেকে রাত অবধি পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা আম বিক্রি করে থাকেন। অপরদিকে মিঠাপুকুরের খোঁড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জহাট, পাইকারের হাট, শুকরের হাট, রংপুর সদরের পালিচড়ার হাট, রংপুর নগরীর বাস টার্মিনাল হাটে হাঁড়িভাঙ্গা আম উঠেছে। এসব হাটে হাঁড়িভাঙ্গা আম মণপ্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা ভিড় জমিয়েছেন হাটগুলোতে।
বাস টার্মিনালে হাঁড়িভাঙ্গা আম ব্যবসায়ী আক্তারুল ও শফিকুল ইসলাম বলেন, টার্মিনাল হাটে ২৫টির মতো আমের দোকান বসেছে। প্রথম দিনে বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে। বর্তমানে আমের সাইজ অনুযায়ী ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা মণ আম বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক শামসুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত ২৯ মে আমচাষি-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা সভা করেছি। আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমচাষিদের যোগাযোগ স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বড় ব্যবসায়ীরা মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জে অবস্থান করে আম কিনে সারা দেশে পাঠাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, রংপুর জেলায় এবার ১ হাজার ৯০৫ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান রয়েছে। এ বছর হাঁড়িভাঙ্গা আমের ফলন হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ মেট্রিক টন। এ বছর হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্য ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে আশা কৃষি বিভাগের।