প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৩ ২০:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে ঋণ সংকট কাটানোর পথ খুঁজে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক দপ্তর ওভাল অফিস থেকে ‘সংকট এড়ানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ সময় তিনি সংকট এড়াতে বিল পাসের কথা উল্লেখ করেন।
নানা বিতর্ক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের অনুমোদন পেয়েছে বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত ফিসকাল রেসপনসিবিলিটি বিল। সাধারণ ভাষায় যাকে ডেবট সিলিং বিল বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হবে এবং তার ফলে দেশটি ঋণখেলাপি হওয়া এড়াতে পারবে।
দেশের সংকটাপন্ন অবস্থা আমেরিকানদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের সেতু হিসেবে কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন জো বাইডেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘শীর্ষ কংগ্রেস রিপাবলিকান কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে তার আপস সিদ্ধান্ত দেখিয়েছে তারা দেশের জন্য কী করতে পারেন।’
আমেরিকানদের মধ্যে বিভক্তি দূর করার অনুরোধ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি যতই আলাদা হোক না কেন, আমাদের একে অপরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নয় বরং সহ-আমেরিকান হিসেবে দেখতে হবে। চিৎকার এবং উত্তপ্ত অবস্থা কমাতে হবে। অগ্রগতির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
এদিকে কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার সমাপ্তি ঘটিয়ে গতকাল শনিবার আইন অনুমোদন বিলে স্বাক্ষর করেছেন জো বাইডেন। ফলে আগামীকাল ৫ জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি যে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়ার সম্ভাবনা ছিল তা এড়াতে পেরেছে দেশটি।
প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে কথা বলার সময় বাইডেন বলেন, ‘আমাদের চুক্তিতে পৌঁছার বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভালো খবর আনতে পেরেছি। উভয় দলই যা চেয়েছিল তা তারা পায়নি। কিন্তু আমরা একত্রিত হতে পেরেছি, সংকটগুলো সম্পন্ন করতে পেরেছি। উভয় পক্ষই সরল বিশ্বাসে কাজ করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের যা প্রয়োজন ছিল তা তারা পেয়েছে। আমরা একটি অর্থনৈতিক সংকট এড়াতে পেরেছি।’
দীর্ঘ আলোচনার পর সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ উভয়ই এই সপ্তাহে ঋণ সংকট এড়াতে বিল পাস করেছে, যা সরকারের ৩১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের অনিশ্চয়তা দূর করেছে।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার ম্যাকার্থি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে আমরা একটি নীতিগত চুক্তিতে পৌঁছেছি। আমাদের এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। তবে আমি মনে করি এটি এমন এক চুক্তি, যেটি আমেরিকানদের ন্যায্য পাওনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে ব্যয় সংকোচনের ঐতিহাসিক বিষয় রয়েছে। এটি সাধারণ মানুষকে দরিদ্রতা থেকে মুক্তি দেবে। সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের লাগাম টানবে। নতুন কোনো ট্যাক্স নেই, নতুন কোনো সরকারি কার্যক্রম নেই। এ আইনে আরও অনেক কিছু আছে। এ চুক্তি আমেরিকানদের জন্য একটি ভালো খবরও। কারণ এর মাধ্যমে খেলাপি ঠেকানো গেছে। যে খেলাপি অর্থনৈতিক মন্দা, অবসরপ্রাপ্তদের বিধ্বস্ত এবং কয়েক লাখ কর্মীর চাকরি কেড়ে নিত।’
এদিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংকঋণে সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। এ ছাড়া ঋণ সংকট এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এতেই চাঙ্গা হয়েছে দেশটির পুঁজিবাজার।
এ ছাড়া গত মে মাসে কিছুটা মজুরি বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিগুলোর এমন সিদ্ধান্ত ভালো সময়ের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে ইতিবাচক ঊর্ধ্বমুখী সূচক প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান নাসডাক।
এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এ সময় বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। এপ্রিলে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে ৫৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানের রেকর্ড করেছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে খুব সময়ের মধ্যে মজুরি বাড়ছে না বলেও মন্তব্যও করেছেন বোকেহ ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা কিম ফরেস্ট। সূত্র : রয়টার্স