× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মসলিনকে জনগণের ব্যবহার উপযোগী করে তোলার তাগিদ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৩ ১৫:১৩ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

১৭০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া মসলিনশিল্পকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৪ সালে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম মসলিনকে পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা দেন। এর পর থেকে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চলছে মসলিনকে স্বমহিমায় আনার কাজটি। কিন্তু এখনও মসলিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে। কারণ এখনও ৭ থেকে ৯ লাখ টাকায় বিক্রি হয় মসলিন। তবে এ খাতকে জনমানুষের দোরগোড়ায় নেওয়া গেলে আরও দ্রুত বিকশিত হবে। একই সঙ্গে এটিকে রপ্তানিপণ্যের তালিকায়ও যুক্ত করা যাবে, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবে বলে মন্তব্য করেছেন এ খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন করপোরেশনের সেমিনার হলে ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার এবং এ খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ বিষয়ক কর্মশালায় এসব কথা তুলে ধরেন বক্তারা। তারা বলেন, মসলিনশিল্পকে পুনরুদ্ধার করতে হলে সুতা তৈরির জন্য পানি ও পরিবেশ দরকার। কিন্তু বর্তমান সময়ের ঢাকা আর ৪০০ বছর আগের ঢাকার মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে। তাই এখন তুলার জেনেটিক উন্নয়ন দরকার। একই সঙ্গে মসলিনকে জনপ্রিয় করতে মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমার মধ্যে আনতে হবে। এজন্য বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করতে হবে। এতে সহজলভ্য হবে মসলিন।

পাঁচ বছর ধরে মসলিন নিয়ে গবেষণা করা অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, মসলিন একটি কালচার, ৪০০ বছর আগে তৈরি হওয়া শিল্প। এই ঢাকা আর প্রাচীন ঢাকা এক ছিল না। চার-চারটি বড় ভূমিকম্প হয়। সারা দেশে এক টুকরো মসলিন পাওয়া যাচ্ছিল না। ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে মসলিনের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়। ফ্রুটি কার্পাস তিন ধরনের টেস্টে, গোসিপিয়াম আরবোরিয়াম। সব ক্ষেত্রে কাপাসিয়ার তুলার সত্যতা মেলে। ঢাকায় এখন সেই পানি ও পরিবেশ নেই। ফলে ফ্রুটি কার্পাসের জেনেটিক ইমপ্রুভমেন্ট দরকার। 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুজ্জামান বলেন, ৫৭০ কাউন্টের সুতা তৈরি করে ফেলেছি। ঢাকাই মসলিনের সুতা পুনরুদ্ধার করেছি। প্লেন মসলিন, শাড়ি, ওড়না, দোপাট্টা, গাউন সবকিছুই হতে পারে। কাটিং বড় একটি ওয়েস্টেজ। তৈরি করতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লেগে যায়। যদি হ্যান্ডওয়াশ করা হয় তাহলে কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়। ড্রাইওয়াশে তেমন কিছুই হয় না। ঢাকাই মসলিন একটি বড় ব্র্যান্ড হয়ে উঠবে। মসলিন স্মার্ট টেক্সটাইলের প্রধান উপকরণ হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক আইয়ুব আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আগে কেউ-ই মসলিন উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। ১৮৬ জন স্পিনার প্রস্তুত আছেন প্রশিক্ষণ দিতে। এটি মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমার বাইরে। রাষ্ট্রীয় অতিথির উপহার হতে পারে। তবে বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড হিসেবে ও বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করতে পারলে একে সহজলভ্য করা সহজ হবে। 

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, স্পর্শ করা যায় না, দেখা যায় না। মসলিনকে ব্যবহার উপযোগিতায় বাড়াতে হবে। একে যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। ব্যয়ও কমানো দরকার। এ নিয়ে না ভাবলে একে জনপ্রিয় করা যাবে না। তাই স্থায়িত্ব ও খরচ কমানোর ওপর জোর দিতে হবে। 

ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল বলেন, মসলিন ফিরিয়ে আনতে পেরেছে সরকার। যতক্ষণ পর্যন্ত বৈচিত্র্যময় করা না যাবে, এই মসলিনকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করা যাবে না। একই প্রক্রিয়া দিয়ে মসলিনকে জনগণের কাছে পৌঁছানো যায়। বৈচিত্র্য ছাড়া কোনো শিল্প বাঁচে না। মেশিন মেড মসলিন থামাতে হবে। আসল না হলে কেউ কিনতেই চাইবে না। 

মসলিন মূল্যায়ন কমিটির প্রধান আবুল কাসেম বলেন, মানুষ মসলিন অবশ্যই কিনবে, সে উপযোগ তৈরি করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি ও বিক্রি করলে লাভজনক হবে না। তাই কালবিলম্ব না করে বেসরকারি খাতে দিয়ে দিতে হবে। আসল, নকল তদারকির পৃথক সংস্থা থাকতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার না হলে বেশিদূর এগোবে না। ডেনিমে এক নম্বরে থাকতে পারলে, মসলিনে নয় কেন? এটা বানানো সহজ নয়। কাজটি বিফলে যেতে দেয়া যাবে না। আর প্রসারের উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। 

এ বিষয়ে বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, বিপণনের চ্যালেঞ্জ আছে ঠিকই কিন্তু এটা অসম্ভব নয়। কোয়ালিটি থাকলে পণ্য বিক্রি হবেÑ এটা মাথায় রাখতে হবে। ব্যাপক উৎপাদন করলে দাম কমে আসবে। 

কর্মশালায় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, জনগণের কাছে সহজলভ্য করা না গেলে এ গবেষণার সফলতা মিলবে না। কাপড়টি ব্যবহার উপযোগী করতে বেসরকারিকরণ করতে হবে। রপ্তানিতে নিয়ে যেতে হবে মসলিনকে। বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। সামর্থ্যের মধ্যে নিয়ে এলে দেশীয় বাজার কম নয়। মসলিনের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ ও পেটেন্ট অর্জিত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি ‘জনপ্রশাসন পদক, ২০২১’ লাভ করেছে। এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আমাদের এ অর্জন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিতে হবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা