× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এক গ্রামেই ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির লক্ষ্য

মধ্যাঞ্চলীয় অফিস

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১৩:৫৭ পিএম

আপডেট : ১৫ মে ২০২৩ ১৮:২৭ পিএম

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে লিচু গাছগুলো ফলে ভরে উঠেছে। প্রবা ফটো

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে লিচু গাছগুলো ফলে ভরে উঠেছে। প্রবা ফটো

লিচুর জন্য বিখ্যাত মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে চলতি মৌসুমেও প্রচুর ফলন হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের এ গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি লিচুগাছ। সেখানে আট-নয় হাজার লিচুগাছ রয়েছে। কৃষকরা জানান, এবার ১০-১১ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

চাষিরা জানান, লিচু চাষ করে তাদের আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে। চাষিদের মতে, প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ হাজার লিচুর ফলন হয়ে থাকে এবং একেক মৌসুমে মঙ্গলবাড়িয়ায় ন্যূনতম ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়ে থাকে।

লিচু বিক্রিকে কেন্দ্র করে এবার ভরা মৌসুমে মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে চলছে উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন লিচু কিনতে। স্থানীয় অধিবাসীদের অনেকের আত্মীয়স্বজন বেড়াতে আসছেন লিচুর মৌসুম উপলক্ষে। বেড়ানোর পাশাপাশি তারা লিচু কিনে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। প্রতি ১০০টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়।

সরেজমিন দেখা যায়, ফলে ভরে উঠেছে লিচুগাছগুলো। তাই বাগানে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এবার মঙ্গলবাড়িয়ায় লিচুর বাম্পার ফলনের কারণে ভালো দাম পাওয়ার আশাও করছেন তারা। 

লিচু কিনতে আসা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নধার গ্রামের তুহীন ও তার স্ত্রী খাদিজা বলেন, প্রতিবছরই তারা এখানে লিচু কিনতে আসেন। এখানকার লিচুর স্বাদই আলাদা। এবার মা-বাবার জন্য লিচু কিনতে এসেছি।

কাপাসিয়া থেকে দুই বন্ধু সোহাগ ও লাদেন মোটরসাইকেল নিয়ে লিচু কিনতে এসেছেন। তারা বলেন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে এখানে এসেছি। এখান লিচুর কথা জানতে পেরে এসেছি। মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু অনেক ভালো। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও খুব মজা।

মঙ্গলবাড়িয়ায় লিচু কিনতে আসা ঢাকার মিরপুরের ব্যবসায়ী মো. সুলেমান হোসেন বলেন, এই গ্রামের লিচুর খ্যাতি আছে। তাই তিনি এখান থেকে লিচু কিনে ঢাকায় বিক্রি করেন। রাজধানী ঢাকায় তার নির্দিষ্ট ক্রেতা রয়েছে। তাদের জন্য তিনি মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

পাকুন্দিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান হামদু বলেন, মঙ্গলবাড়িয়ায় লিচু চাষের ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেই। যদি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আরও পরামর্শ, সহযোগিতা ও তদারকি করত, তাহলে এলাকার লিচু চাষিরা আরও বেশি উপকৃত হতেন, ফলনও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেত।

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-ই-আলম বলেন, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে ২০০ বছর ধরে লিচু চাষ হয়ে আসছে। লাল রঙ এবং বড় আকৃতির এই লিচুর আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ছোট বিচি, কিন্তু মাংসল, বিচি বাদ দিলে লিচুর প্রায় ৮৫ ভাগজুড়েই আবরণ। যা খুবই মিষ্টি স্বাদ ও রসালো। এসব গুণের কারণেই এখানকার লিচু ইতোমধ্যে দেশের সর্বত্র সুনাম কুড়িয়েছে। গ্রামে প্রবেশ করলেই দেখা যায়, বাড়িঘরের আঙিনা এবং রাস্তার দুপাশের গাছগুলো ছেয়ে গেছে লাল রঙের লিচুতে। চারদিকে লালের আভা ছড়িয়ে লিচু এক মোহনীয় আবহ সৃষ্টি করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুস সাত্তার বলেন, এবার মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচু চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। আশা করি, আগামীতে লিচু চাষ আরও বাড়বে। আমরা এ বিষয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করব। 

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে এই গ্রামের এক ব্যক্তি চীন দেশ থেকে ফিরে আসার সময় একটি লিচুর চারা সঙ্গে নিয়ে আসেন আর সেটা এই গ্রামে রোপণ করে দেন। গ্রামবাসী সেই লিচুর বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিস্তার ঘটিয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। ২০০ বছর ধরে গ্রামটি মঙ্গলবাড়িয়া নামে বিখ্যাত লিচু গ্রামে পরিণত হয়েছে। কথিত আছে, মঙ্গল শাহ নামের এক ব্যক্তি চীন থেকে চারা এনে গ্রামে প্রথম লিচুগাছ লাগিয়ে লিচু চাষ করেন। পরবর্তীতে তার নামেই এই এলাকার নামকরণ হয়ে যায় মঙ্গলবাড়িয়া।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা